শিরোনাম :
পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ কে এই খাইরুল দেওয়ান ? শুক্রবার সারা ভারতে জুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির ভেনিস উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও বিতর্কের জেরে জামাত নেতা গাজী নজরুলকে বহিষ্কার, ইসি-স্পিকারকে চিঠি শাহজাদপুরে ১৫৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ মোদির সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

বনের ক্যাম্প থেকে বিশ্বকাপ ফাইনালে রদ্রির যাত্রা

মাত্র ১৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে বসে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখেছিলেন এক কিশোর। চারপাশে ছিল বন, ছিল না ফুটবলের উন্মাদনা। তবু কাউন্সেলরের কম্পিউটারে দেখা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক গোল তাঁর মনে গেঁথে যায়। সেই কিশোরই আজ স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। ভাগ্যের বিস্ময়কর পরিক্রমায় ১৬ বছর পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, তবে এবার দর্শক নয়—বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্যতম প্রধান নায়ক তিনি।
রদ্রির পরিবারে শিক্ষার গুরুত্ব ছিল বরাবরই। তাঁর বাবা চেয়েছিলেন ছেলে এক বছর যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করুক। কিন্তু ফুটবলের প্রতি অদম্য টান সেই পরিকল্পনা বদলে দেয়। পরে ব্যবসায় বিষয়ে ডিগ্রি নিলেও রদ্রির আসল পরিচয় গড়ে ওঠে ফুটবলের মাঠে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে একের পর এক সাফল্য, ব্যালন ডি’অর জয় এবং এখন জাতীয় দলের নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে তিনি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার।
বর্তমান বিশ্বকাপে রদ্রির ভূমিকা শুধু একজন অধিনায়কের নয়, বরং দলের ভারসাম্য রক্ষাকারীর। প্রতিপক্ষের আক্রমণ মাঝমাঠেই থামিয়ে দেওয়া, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সতীর্থদের ছন্দে রাখা—এই তিন কাজেই তিনি অনন্য। তাই অনেকেই তাঁকে স্পেন দলের ‘শক অ্যাবজরবার’ বলে অভিহিত করছেন।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও দেখা গেছে সেই চেনা রদ্রিকে। পাউ কুবারসি ও আইমেরিক লাপোর্তকে সঙ্গে নিয়ে তিনি স্পেনের রক্ষণকে প্রায় অভেদ্য করে তুলেছিলেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে কিংবা উসমান দেম্বেলের মতো তারকারা বারবার তাঁর চাপের মুখে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেননি। ম্যাচে ১৫টি বল দখলের লড়াইয়ের মধ্যে ১১টিতে জয় পান রদ্রি। বিস্ময়করভাবে তাঁকে থামাতেই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বারবার ফাউল করতে হয়েছে।
শুধু একটি ম্যাচ নয়, পুরো টুর্নামেন্টেই রদ্রির পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। সাত ম্যাচে তাঁর সফল পাসের হার ৯৩ শতাংশ। দূরপাল্লার পাসেও সফলতা প্রায় ৭৮ শতাংশ। আকাশে বল দখলের লড়াইয়ে জয়ের হার ৭৯ শতাংশ এবং সফল ট্যাকল করেছেন ২২টি। এই সংখ্যাগুলোই প্রমাণ করে, স্পেনের মাঝমাঠ কতটা নিরাপদ তাঁর উপস্থিতিতে।
অথচ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মারাত্মক এসিএল ইনজুরিতে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। অনেকেই ভেবেছিলেন, আগের ছন্দে হয়তো আর ফেরা হবে না। কিন্তু বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চেই রদ্রি দেখিয়ে দিলেন, বড় খেলোয়াড়েরা কঠিন সময় পেরিয়েও কীভাবে নিজেদের নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেন।
সেমিফাইনাল জয়ের পরও অবশ্য উচ্ছ্বাসে ভেসে যাননি স্পেন অধিনায়ক। শান্ত কণ্ঠে বলেছেন, দল আরেক ধাপ এগিয়েছে, এখন প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় ফাইনালের প্রস্তুতি নেওয়া। এই সংযমই যেন তাঁর খেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।
১৬ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক বনাঞ্চলের ক্যাম্পে বসে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন যে কিশোর, আজ সেই একই দেশে বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসে রদ্রির এই যাত্রা শুধু একজন তারকার উত্থানের গল্প নয়, এটি ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য উদাহরণ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বনের ক্যাম্প থেকে বিশ্বকাপ ফাইনালে রদ্রির যাত্রা

আপডেট সময় ১২:১৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

মাত্র ১৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে বসে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখেছিলেন এক কিশোর। চারপাশে ছিল বন, ছিল না ফুটবলের উন্মাদনা। তবু কাউন্সেলরের কম্পিউটারে দেখা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক গোল তাঁর মনে গেঁথে যায়। সেই কিশোরই আজ স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। ভাগ্যের বিস্ময়কর পরিক্রমায় ১৬ বছর পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, তবে এবার দর্শক নয়—বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্যতম প্রধান নায়ক তিনি।
রদ্রির পরিবারে শিক্ষার গুরুত্ব ছিল বরাবরই। তাঁর বাবা চেয়েছিলেন ছেলে এক বছর যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করুক। কিন্তু ফুটবলের প্রতি অদম্য টান সেই পরিকল্পনা বদলে দেয়। পরে ব্যবসায় বিষয়ে ডিগ্রি নিলেও রদ্রির আসল পরিচয় গড়ে ওঠে ফুটবলের মাঠে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে একের পর এক সাফল্য, ব্যালন ডি’অর জয় এবং এখন জাতীয় দলের নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে তিনি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার।
বর্তমান বিশ্বকাপে রদ্রির ভূমিকা শুধু একজন অধিনায়কের নয়, বরং দলের ভারসাম্য রক্ষাকারীর। প্রতিপক্ষের আক্রমণ মাঝমাঠেই থামিয়ে দেওয়া, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সতীর্থদের ছন্দে রাখা—এই তিন কাজেই তিনি অনন্য। তাই অনেকেই তাঁকে স্পেন দলের ‘শক অ্যাবজরবার’ বলে অভিহিত করছেন।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও দেখা গেছে সেই চেনা রদ্রিকে। পাউ কুবারসি ও আইমেরিক লাপোর্তকে সঙ্গে নিয়ে তিনি স্পেনের রক্ষণকে প্রায় অভেদ্য করে তুলেছিলেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে কিংবা উসমান দেম্বেলের মতো তারকারা বারবার তাঁর চাপের মুখে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেননি। ম্যাচে ১৫টি বল দখলের লড়াইয়ের মধ্যে ১১টিতে জয় পান রদ্রি। বিস্ময়করভাবে তাঁকে থামাতেই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বারবার ফাউল করতে হয়েছে।
শুধু একটি ম্যাচ নয়, পুরো টুর্নামেন্টেই রদ্রির পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। সাত ম্যাচে তাঁর সফল পাসের হার ৯৩ শতাংশ। দূরপাল্লার পাসেও সফলতা প্রায় ৭৮ শতাংশ। আকাশে বল দখলের লড়াইয়ে জয়ের হার ৭৯ শতাংশ এবং সফল ট্যাকল করেছেন ২২টি। এই সংখ্যাগুলোই প্রমাণ করে, স্পেনের মাঝমাঠ কতটা নিরাপদ তাঁর উপস্থিতিতে।
অথচ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মারাত্মক এসিএল ইনজুরিতে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। অনেকেই ভেবেছিলেন, আগের ছন্দে হয়তো আর ফেরা হবে না। কিন্তু বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চেই রদ্রি দেখিয়ে দিলেন, বড় খেলোয়াড়েরা কঠিন সময় পেরিয়েও কীভাবে নিজেদের নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেন।
সেমিফাইনাল জয়ের পরও অবশ্য উচ্ছ্বাসে ভেসে যাননি স্পেন অধিনায়ক। শান্ত কণ্ঠে বলেছেন, দল আরেক ধাপ এগিয়েছে, এখন প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় ফাইনালের প্রস্তুতি নেওয়া। এই সংযমই যেন তাঁর খেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।
১৬ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক বনাঞ্চলের ক্যাম্পে বসে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন যে কিশোর, আজ সেই একই দেশে বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসে রদ্রির এই যাত্রা শুধু একজন তারকার উত্থানের গল্প নয়, এটি ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য উদাহরণ।

Share this news as a Photo Card