ইনকিলাব জিন্দাবাদ শ্লোগান দেওয়ায় গণঅধিকার পরিষদ নেতাকে অব্যাহতি

গণ অধিকার পরিষদ নেতা সৈয়দ আলীউজ্জামান মহসিনকে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দেওয়ার কারণে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলার গণ অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি সৈয়দ আলীউজ্জামান মহসিনকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কটিয়াদি উপজেলার এই সাবেক আহ্বায়ককে সংগঠনের একটি শ্লোগানের কারণে এই পদক্ষেপের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জুলাই, ২০২৫ তারিখে। কিশোরগঞ্জ জেলার গণ অধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘জুলাই-আগস্টের পদযাত্রা’র সমাপ্তির পর এক বক্তৃতায় সৈয়দ মহসিন ‘২৪ এর বাংলায় বৈষম্যের ঠাই নাই, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ শ্লোগানটি দেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ।

পরবর্তীতে ১৭ জুলাই, ২০২৫ তারিখে দলের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মহসিনের অব্যাহতি পত্র প্রকাশ করেন। এই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে সৈয়দ মহসিন বলেন, “কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি আরও যোগ করেন, “‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ আমাদের ২৪ এর বিপ্লবের পক্ষের শ্লোগান। যারা এই শ্লোগানকে সহ্য করতে পারে না তারা কোনোভাবেই বিপ্লবকে ধারণ করে না।”

গণ অধিকার পরিষদের এই সিদ্ধান্ত দলটির অভ্যন্তরে একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সদ্য প্রকাশিত কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটি নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে চলমান বিতর্কের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত দলের গণতান্ত্রিক চর্চা এবং প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীরা এই ঘটনার বিরুদ্ধে এবং পক্ষে বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন।

অনেকে মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে দলটির অভ্যন্তরীণ গঠন এবং কর্মীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে, সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় এই পদক্ষেপকে একটি জরুরি এবং সময়োচিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গণ অধিকার পরিষদের এই সিদ্ধান্ত দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল এবং নেতৃত্বের উপর গুরত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনগুলোও এই ঘটনাকে নজরে রাখছে এবং এর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্লেষণ করছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিশ্চিত হলে, সবকিছু ইতিবাচক হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইনকিলাব জিন্দাবাদ শ্লোগান দেওয়ায় গণঅধিকার পরিষদ নেতাকে অব্যাহতি

আপডেট সময় ০৬:৫১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

গণ অধিকার পরিষদ নেতা সৈয়দ আলীউজ্জামান মহসিনকে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দেওয়ার কারণে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলার গণ অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি সৈয়দ আলীউজ্জামান মহসিনকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কটিয়াদি উপজেলার এই সাবেক আহ্বায়ককে সংগঠনের একটি শ্লোগানের কারণে এই পদক্ষেপের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জুলাই, ২০২৫ তারিখে। কিশোরগঞ্জ জেলার গণ অধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘জুলাই-আগস্টের পদযাত্রা’র সমাপ্তির পর এক বক্তৃতায় সৈয়দ মহসিন ‘২৪ এর বাংলায় বৈষম্যের ঠাই নাই, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ শ্লোগানটি দেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ।

পরবর্তীতে ১৭ জুলাই, ২০২৫ তারিখে দলের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মহসিনের অব্যাহতি পত্র প্রকাশ করেন। এই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে সৈয়দ মহসিন বলেন, “কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি আরও যোগ করেন, “‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ আমাদের ২৪ এর বিপ্লবের পক্ষের শ্লোগান। যারা এই শ্লোগানকে সহ্য করতে পারে না তারা কোনোভাবেই বিপ্লবকে ধারণ করে না।”

গণ অধিকার পরিষদের এই সিদ্ধান্ত দলটির অভ্যন্তরে একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সদ্য প্রকাশিত কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটি নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে চলমান বিতর্কের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত দলের গণতান্ত্রিক চর্চা এবং প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীরা এই ঘটনার বিরুদ্ধে এবং পক্ষে বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন।

অনেকে মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে দলটির অভ্যন্তরীণ গঠন এবং কর্মীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে, সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় এই পদক্ষেপকে একটি জরুরি এবং সময়োচিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গণ অধিকার পরিষদের এই সিদ্ধান্ত দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল এবং নেতৃত্বের উপর গুরত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনগুলোও এই ঘটনাকে নজরে রাখছে এবং এর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্লেষণ করছে।

Share this news as a Photo Card