শিরোনাম :
আশুলিয়ায় মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইইউ-আমেরিকার বাজার ধরে রাখতে ট্রেসেবিলিটির ৬৬ ঘাটতি মিরপুরে চতুর্থ দিনেই বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাবলেট উচ্ছেদে আজিমপুরে বিপাকে কলেজছাত্রীরা লং ড্রাইভে না গিয়ে এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা করুন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এইচএসসি পরিক্ষায় কুড়িগ্রামে নয় কলেজের পাস করেননি কেউ সরকারি বাসা সাবলেট দিলেই বরাদ্দ বাতিল, ভাড়াটিয়া সরানোর শেষ সময় আজ এইচএসসিতে ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা

ফ্যাসিবাদ গণতন্ত্রকে গুম করেছে : সলিমুল্লাহ খান

১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম থাকায় গণতন্ত্র শব্দটিই গুম হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, দেশের সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে, গণতন্ত্র তিরোহিত করে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে কেবল নির্যাতন করে গেছে।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লবে কবিতা ও কবিদের কবিতা পাঠ’ শিরোনামের আয়োজনে প্রধান বক্তার ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে গণতন্ত্র শব্দটিকে অর্থহীন করে দিয়েছে্। গণতন্ত্র শব্দটির মর্মকথাই ফ্যাসিবাদ গুম করে দিয়েছে। যে শাসনব্যবস্থা দিনের পর দিন মানুষের অধিকার খর্ব করে, মানুষকে গুম করে রাখে, সেটি কি প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ছিল?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সেসব সমালোচকের প্রসঙ্গে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, অনেকে বলছেন এটি তো রাজনৈতিক সরকার নয়। এটি সংবিধানসম্মত সরকারও নয়। তাদের বলছি, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানই এই সরকারের বৈধতা দিয়েছে। আর যে সংবিধানের কথা বলা হচ্ছে, সেটিও নিজেই নিজেকে বিলুপ্ত করেছে। সংবিধানের মূল কথা ছিল, মানুষে মানুষে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সবাই তার প্রতিভা অনুসারে ফলাফল পাবে। সেটি কী হয়েছে?
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে অনেকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও এনেছেন আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে সলিমুল্লাহ খান বলেন, এই আন্দোলন-সংগ্রামের হোতাদের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের দুষ্কৃতকারী, জঙ্গি বলা হয়েছে। কিন্তু যারা ক্ষমতা ধরে রেখে দীর্ঘদিন জনগণের ওপর অত্যাচার করেছে তারাই তো আসলে জঙ্গি।
জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে জাতীয় কবিতা পরিষদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে আন্দোলনে জাতীয় কবিতা পরিষদের ভূমিকা কী ছিল? তারা মানুষের মনের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পারেননি। তারা তো আসলে কবি নন, হয়ে গেছেন আমলা। ২০০৯ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের জাতীয় কবিতা উৎসবে শামসুর রাহমানের ‘স্যামসন’ কবিতা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন সলিমুল্লাহ খান। সেদিন প্রয়াত কবি রফিক আজাদের নেতৃত্বে একদল তরুণ কবি তাকে মারতে উদ্যত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকে সলিমুল্লাহ খান জাতীয় কবিতা পরিষদের কোনো আয়োজনে আসেননি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের আহ্বায়ক কবি মোহন রায়হান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্যসচিব কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন। বক্তা হিসেবে ছিলেন গীতিকবি শহীদুল্লাহ্ ফরাজী ও মনিরুল ইসলাম মনি।
কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সহযোগী কবিরা আজকে পালিয়ে গেছে। অথচ কবিদের পালিয়ে যাওয়ার কথা না। কবিরা তো জাতির বিবেকের প্রতীক। তারা সততা, প্রেম ও দ্রোহের প্রতীক। কবিরা এ দেশে স্বৈরাচারের পুনর্বাসন দেখতে চায় না। আমরা কোনো স্বৈরাচারের প্রেতাত্মাদের ক্ষমতায় দেখতে চাই না। শুধু কবিতা লিখেই ক্ষান্ত হবেন না কবিরা। তারা দেশ ও সমাজের পুনর্গঠনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।’
কবি মতিন বৈরাগী, কবি কামার ফরিদ, ছড়াকার আবু সালেহ, কবি শহিদুল্লাহর ফারায়জী, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি শাহীন রেজা, কবি নুরুল ইসলাম মনি, কবি শ্যামল জাকারিয়া, কবি শওকত হোসেন, কবি আসাদ কাজল, কবি মাহমুদুন্নবী জ্যোতি, কবি কামরুজ্জামান, কবি বাবু হাবিবুল, কবি এবিএম সোহেল, কবি রোকন জহুর, কবি সুমনা নাজনীনসহ অর্ধশত কবি কবিতা পড়েন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৌগোলিক সীমা ছাড়াই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা

৩১ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ফ্যাসিবাদ গণতন্ত্রকে গুম করেছে : সলিমুল্লাহ খান

আপডেট সময় ০৬:১৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম থাকায় গণতন্ত্র শব্দটিই গুম হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, দেশের সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে, গণতন্ত্র তিরোহিত করে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে কেবল নির্যাতন করে গেছে।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লবে কবিতা ও কবিদের কবিতা পাঠ’ শিরোনামের আয়োজনে প্রধান বক্তার ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে গণতন্ত্র শব্দটিকে অর্থহীন করে দিয়েছে্। গণতন্ত্র শব্দটির মর্মকথাই ফ্যাসিবাদ গুম করে দিয়েছে। যে শাসনব্যবস্থা দিনের পর দিন মানুষের অধিকার খর্ব করে, মানুষকে গুম করে রাখে, সেটি কি প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ছিল?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সেসব সমালোচকের প্রসঙ্গে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, অনেকে বলছেন এটি তো রাজনৈতিক সরকার নয়। এটি সংবিধানসম্মত সরকারও নয়। তাদের বলছি, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানই এই সরকারের বৈধতা দিয়েছে। আর যে সংবিধানের কথা বলা হচ্ছে, সেটিও নিজেই নিজেকে বিলুপ্ত করেছে। সংবিধানের মূল কথা ছিল, মানুষে মানুষে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সবাই তার প্রতিভা অনুসারে ফলাফল পাবে। সেটি কী হয়েছে?
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে অনেকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও এনেছেন আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে সলিমুল্লাহ খান বলেন, এই আন্দোলন-সংগ্রামের হোতাদের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের দুষ্কৃতকারী, জঙ্গি বলা হয়েছে। কিন্তু যারা ক্ষমতা ধরে রেখে দীর্ঘদিন জনগণের ওপর অত্যাচার করেছে তারাই তো আসলে জঙ্গি।
জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে জাতীয় কবিতা পরিষদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে আন্দোলনে জাতীয় কবিতা পরিষদের ভূমিকা কী ছিল? তারা মানুষের মনের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পারেননি। তারা তো আসলে কবি নন, হয়ে গেছেন আমলা। ২০০৯ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের জাতীয় কবিতা উৎসবে শামসুর রাহমানের ‘স্যামসন’ কবিতা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন সলিমুল্লাহ খান। সেদিন প্রয়াত কবি রফিক আজাদের নেতৃত্বে একদল তরুণ কবি তাকে মারতে উদ্যত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকে সলিমুল্লাহ খান জাতীয় কবিতা পরিষদের কোনো আয়োজনে আসেননি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের আহ্বায়ক কবি মোহন রায়হান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্যসচিব কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন। বক্তা হিসেবে ছিলেন গীতিকবি শহীদুল্লাহ্ ফরাজী ও মনিরুল ইসলাম মনি।
কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সহযোগী কবিরা আজকে পালিয়ে গেছে। অথচ কবিদের পালিয়ে যাওয়ার কথা না। কবিরা তো জাতির বিবেকের প্রতীক। তারা সততা, প্রেম ও দ্রোহের প্রতীক। কবিরা এ দেশে স্বৈরাচারের পুনর্বাসন দেখতে চায় না। আমরা কোনো স্বৈরাচারের প্রেতাত্মাদের ক্ষমতায় দেখতে চাই না। শুধু কবিতা লিখেই ক্ষান্ত হবেন না কবিরা। তারা দেশ ও সমাজের পুনর্গঠনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।’
কবি মতিন বৈরাগী, কবি কামার ফরিদ, ছড়াকার আবু সালেহ, কবি শহিদুল্লাহর ফারায়জী, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি শাহীন রেজা, কবি নুরুল ইসলাম মনি, কবি শ্যামল জাকারিয়া, কবি শওকত হোসেন, কবি আসাদ কাজল, কবি মাহমুদুন্নবী জ্যোতি, কবি কামরুজ্জামান, কবি বাবু হাবিবুল, কবি এবিএম সোহেল, কবি রোকন জহুর, কবি সুমনা নাজনীনসহ অর্ধশত কবি কবিতা পড়েন।
আরো পড়ুন : সাহিত্যে নোবেল পেলেন দক্ষিণ কোরিয়ার হান ক্যাং

Share this news as a Photo Card