ঢাকা ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক নজরে জামায়াতের ঘৃণ্য ইতিহাস (১৯৪১-২০২৬ ইং)

১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট অখণ্ড ভারতের লাহোরে” জামাতে ইসলামী হিন্দ” নামে ইসলামের মুখোসে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে কম্যুনিস্ট বিরোধী শক্তি হিসাবে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদিদের মদদপুষ্ট হয়ে এ দলটি গঠিত হয়। এখনও বৃটিশদের সাথে এই পথভ্রস্ট দলটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
ইসলামের সাথে এর দূরবর্তী কোনো সম্পর্কও নেই বরং এটি একটি শিয়া, খারেজি-রাফেজি, মোতাজেলী, ওহাবী-সালাফি, কাদিয়ানীদের মতো একটি পথভ্রস্ট দল যারা নবী-রসূল সাহাবাদের সম্মান দিতে জানেনা। মওদুদির তার বিভিন্ন বই-পুস্তকে নবী-রসূল ও সাহাবাদের সমালোচনা করে, তার ফলে সে এবং তার মতাদর্শে বিশ্বাসীগণ সুন্নত ওয়াল জামাত থেকে বহিঃষ্কৃত হয়ে একটি পথভ্রস্ট দলে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রমাণসহ বহু প্রজ্ঞাবান আলেমের লিখিত বিবৃতি আছে যে, তারা গোমরাহি বা পথভ্রস্ট একটি দল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরি র. এঁর “ ভুল সংশোধন,” মাওলানা হাফেজ্জী হুজুরের ৪৫২ জন আলেমের দস্তক্ষত সম্বলিত কিতাব “সতর্ক বাণী” প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
তাদের বই- পুস্তকে এর বহু প্রমাণ পাওয়া যায় যেমন আবুল আলা মওদুদি লিখিত বিভিন্ন কিতাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, তাহফিমূল কোরআন, খেলাফতে মুলকিয়াত, ইসলামি রেঁনেসা আন্দোলন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এই কিতাবগুলো তে নবী স. এঁর সন্মানিত সহচরবৃন্দের বিষোদগার করা হয় এমনকি নবী-রাসুলদেরও সমালোচনা করা থেকে লানতপাপ্ত মওদুদি বিরত হয় নাই। ফলে সে এবং তার মতবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা -বিশ্বাস থেকে বহিষ্কৃত হয়ে একটি পথভ্রষ্ট দলে পরিণত হয়। তাই ইমান-আকিদা হেফাজত করার জন্য এই দলটি এবং এই দলের লোকদের থেকে সবিশেষ সাবধান থাকতে হবে।
দলটির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীর জন্ম ভারতের আওরঙ্গবাদে, বর্তমান হায়দারাবাদ, মহারাষ্ট্র। ব্যাক্তিগত দর্শনই এই দলটার রাজনৈতিক দর্শন। শুধু তাই নয়; জামাতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবু আলা মওদুদীর পুত্র সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী পাকিস্তানের রয়েল টেলিভিশনে গত ২৮ মে ২০১১ ইং এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জামায়াত ধর্মব্যবসায়ী এবং অত্যাচারী। সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী বলেছেন, আমার বাবা কখনও আমাদেরকে রাজনীতির সাথে জড়াতে দেননি। এছাড়া তিনি জামায়াত সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়ে সত্য উন্মোচন করেছেন এখানে।
জামায়াতের এই প্রতিষ্ঠাতা মওদুদি ইসলাম সম্পর্কেও অনেক নেক্কার জনক কথা বলেছেন। কোরআনের অনেক অপব্যাখ্যা করেছেন যা সর্বজন স্বীকৃত। তার কয়েকটি নমুনা এখানে তুলে ধরছি। তার এসব ধর্মবিকৃতি মনোভাব দেখলেই বুঝতে পারা যায় যে তারা আসলে ইসলামের নামে কি করছে।
০১. “গণতন্ত্র বিষাক্ত দুধের মাখনের মত” – মওদূদী, সিয়াসি কসমকস, তৃতীয় খন্ড, পৃঃ ১৭৭
০২. “গণতন্ত্রএর মাধ্যমে কোনো সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ইসলাম অনুযায়ী হারাম” – রাসায়েল ও মাসায়েল । লেখক মওদূদী -প্রথম সংঙ্করণ, ৪৫০ নং পৃষ্ঠা। ০৩. “সময়ে সময়ে মিথ্যা বলা শুধু জায়েজই নয় বরং অবশ্য কর্তব্য” – আবুল আলা মওদূদী, তরজমানুল কোরআন, মে ১৯৫৮!
কথায় আর কাজে এক রকম না হলে তাকে মোনাফিক বলা হয়। গণতন্ত্রের মাধ্যমে নির্বচন করে প্রার্থী হওয়া হারাম বলে আবার সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে মন্ত্রি হওয়া এটাই প্রমাণ করে যে মিথ্যাবাদি এই দলটি ইসলামের ছব্দাবরণে শয়তানের অনুসারী একটি দল যা আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে অহরহ ধোঁকা দিয়ে আসছে। এ পথভ্রস্ট দলটি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ছল-চাতুরির আশ্রয় নেয় কেবলমাত্র রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল করার উদ্দেশ্য। সাধারণ মানুষকে ইসলামের নামে ধোঁকা দিয়ে ছলেবলে কৌশলে কেবলমাত্র ক্ষমতায় যাওয়াই এই দলটির লক্ষ।
জামায়াতের ঘৃণ্য ইতিহাস (১৯৪১-২০২৬)
১৯৪১- এ জন্মের সাথে সাথে এরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধীতা করতে থাকে । মওদূদী ফতোয়া দেন পাকিস্তান রাষ্ট প্রতিষ্ঠার দাবী করা সবাই, মুসলীম লীগ, জিন্নাহ এরা কেউই “খাটি মুসলিম” না । মাথায় রাখেন ৭১ সালেও গণ হত্যার সময় “খাটি মুসলিম” তত্ব ব্যাবহার করা হয়েছে ।
১৯৪২- লাহোর থেকে হেডকোয়ার্টার ভারতের পাঠানকোটে স্থানান্তর ।
১৯৪৩- মাসিক “তরজমানুল কোরআন” ম্যাগাজিনের মাধ্যমে নিজেদের মতবাদ প্রচার করতে থাকে। এই ম্যাগাজিনের ফেব্রুয়ারী সংখ্যায় মওদূদী পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে লিখেন, পাকিস্তান নামক কোনো রাষ্ট্রের জন্ম হলে সেটা “আহাম্মকের বেহেশত” এবং “মুসলমানদের কাফেরানা রাষ্ট্র” হবে। *পাকিস্তানের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধীতা করে দলটি।
১৯৪৪- দল দ্রুত সংঘঠিত হতে থাকে । দ্রুত বাড়তে থাকে সদস্য সংখ্যা ।
১৯৪৫- অবিভক্ত ভারতে সর্বপ্রথম কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় ।
১৯৪৬- কয়েকজন আলেমকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়।
১৯৪৭- দেশভাগের সাথে সাথে লাহোরে প্রধাণ কার্যালয় স্থানান্তর । অথচ এর আগে পর্যন্ত পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের চরম বিরোধীতা করে। পাকিস্তানে যাওয়ার পর পাকিস্তানের কাশ্মীরের জন্য আন্দোলন করাকে হারাম ঘোষণা দেয়।
১৯৪৮- ইসলামী সংবিধান ও ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচারণা শুরু করে। এর পর পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে মওদূদীকে কারাবন্দী করে । *এ বছর পূর্বপাকিস্তানে জামাতের কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৪৯- পাকিস্তান সরকার আগে বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত জামাতের “ইসলামী সংবিধানের রূপরেখা” গ্রহণ করে । পরে পাকিস্তান জামাত প্রভাবিত সংবিধান প্রণয়ন করে ।
১৯৫০- পরের বছর পাঞ্জাবের প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য ব্যাপক প্রচারণা । মওদূদী জেল থেকে মুক্তি পান ।
১৯৫১- পাঞ্জাবের প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভরাডুবি ।
১৯৫২- গোলাম আজম ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন । পরে ১৯৭০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুর শহরে এক সংবর্ধণা সভায় তিনি বলেন “উর্দূ পাক-ভারত উপমহাদেশের মানুষের সাধারণ ভাষা। ৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া তার মারাত্নক ভুল ছিলো। বাংলা ভাষা আন্দোলন মোটেও সঠিক কাজ হয়নি। তিনি এজন্য দুঃখিত” সূত্র : দৈনিক আজাদ ২০ জুন ১৯৭০/ সাপ্তাহিক গণশক্তি ২১ জুন ১৯৭০/ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস- ডঃ মোহাম্মদ হান্নান, পৃঃ ৩৯৯
১৯৫৪- গোলাম আজম জামাতে যোগ দেন । প্রথম দিকে পূর্বপাকিস্তানে জামাতের অবস্থান মজবুত না থাকলেও, গোলাম আজম যোগ দেওয়ার সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তানে দল চাঙ্গা হয়ে উঠে ।
১৯৫৫- ১৯৪৭ সালে গঠিত “জামায়াত ই তালেবর” নাম পরিবর্তন করে “ইসলামী ছাত্রসংঘ” নামে আত্নপ্রকাশ করে। মাওলানা আবদুর রহীম পূর্ব পাকিস্তানের আমির নির্বাচিত হন (পরে তিনি ভুল বুঝতে পেরে জামাতের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেন)
১৯৫৬- পূর্ব পাকিস্তানে কার্যক্রম শুরু করে ইসলামী ছাত্রসংঘ।
১৯৫৭- সালে গোলাম আজমকে পূর্ব পাকিস্তান জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল নিজুক্ত করা হয় । আমির ছিলেন মাওলানা আবদুর রহিম ।
১৯৫৮- আইয়ুব খান জামায়াতে ইসলামী সহ সকল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষনা করে । ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এই ফরমান বলবৎ ছিল।
১৯৬২- মুসলিম পারিবার আইনের বিরোধীতা করেন। শিক্ষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
১৯৬৩- মুসলিম পারিবারিক আইন নিয়ে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ।
১৯৬৪- ৪ জানুয়ারী জামাতের সকল কর্মকান্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় । *নিষিদ্ধ হয় জামায়াত । মওদুদী সহ ৬০ জন জামাত নেতাকে গ্রেফতার করা হয় । যার ভিতর গোলাম আজম একজন । অক্টোবরেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় ।
১৯৬৫- নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহর পরাজয় ঘটলে দল কোনঠাসা হয়ে পড়ে।
১৯৬৬- শেখ মুজিবের ৬ দফার বিরোধীতা করে। এই দফাগুলোকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে অখ্যায়িত করে ।
১৯৬৭- শেখ মুজিবের ৬ দফার ভিত্তিতে যখন পূর্ব পাকিস্তানে প্রবল গণ আন্দোলন শুরু হয়, তখন জামাত ৫ দফা নামে আরেকটা আন্দোলন শুরু করে গণ আন্দোলন ব্যাহত করার চেষ্টা করে।
১৯৬৮- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তান উত্তাল হয়ে উঠে । সারা পাকিস্তানে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে। এর ভিতরেই জামাত আইয়ুব খানের আস্থা অর্জন করে নেয় ।
১৯৬৯- গণ অভ্যুথানের সময় রহস্যজনক রাজনৈতিক অবস্থান । গোলাম আজম পূর্ব পাকিস্তানের আমির হন ।
১৯৭০- পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫১ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৪ টি আসন জিতে নেয় । সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী দেয় আওয়ামীলীগ এবং তারা সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভও করে । তৃতীয় সর্বোচ্চ আসনে (১২০) পার্থী দেয় ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি।
১৯৭১- একাত্তরের জামাত নিয়ে কয়েক লাইনে শেষ করা অসম্ভব । তারপও দুই এক লাইন লিখা অনস্বীকার্য । ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষায় ঢাকায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয় । কয়েকদিন আগে উদ্ধার হওয়া একটা নথিঁতে দেখা যায় এই কমিটির ১ নম্বর সদস্য হচ্ছেন গোলাম আজম । নথিঁটা দীর্ঘদিন যাবত পুরান ঢাকার এক ভদ্রলোক সংরক্ষণ করেছিলেন । পরে নথিঁটা তিনি আন্তর্জাতিক যুদ্ধপরাধ ট্রাইবুনালে জমা দেন । ৩০ জুন লাহোরে গোলাম আজম বলেন তার দল মুক্তিযোদ্ধাদের (দুস্কৃতকারীদের) দমন করার জন্য সর্বাত্নক চেষ্টা চালাচ্ছে । দলের নেতৃত্বে গঠন করা হয় আলবদর রাজাকার । সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আবদুল মালেকের নেতৃত্বে প্রাদেশিক সরকার গঠন করা হয় । জামাতের সাবেক আমীর আব্বাস আলী খান এই সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন । ১৯৭১ সালে সংঘঠিত ইতিহাসের বৃহত্তম গণহত্যার জন্য দলটা কোনো ক্ষমা চায়নি । বরং গোলাম আজম দম্ভের সাথে জানিয়ে দেন একাত্তরের জন্য তারা অনুতপ্ত নয় । বরং তারা যা করেছে ঠিক করেছে ।
১৯৭২- গোলাম আজমের উদ্যোগে পাকিস্তানে পালিত হয় “পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার সপ্তাহ” এরপর লন্ডন গিয়ে সেখানে “পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধার কমিটি ” নামে একটা কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি বাংলাদেশকে উদ্ধার করে আবার পূর্ব পাকিস্তান করার সর্বাত্নক চেষ্টা চালায়। ডিসেম্বরে সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে অংশ নিয়ে সকল মুসলিম রাষ্ট্রকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে, এবং যুদ্ধ বিদ্ধস্ত মানুষের সহায়তায় কোনো প্রকার আর্থিক সাহায্য না দিতে আহবান জানান।
১৯৭৩- সরকারী এক আদেশে ৩৮ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয় । এর একজন গোলাম আজম । গোলাম আজম মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো সফর শুরু করেন। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে এবং পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধারে সহায়তা চান। ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন অব স্টুডেণ্টস ইসলামিক সোসাইটির সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধারের বিষয়ে বক্তৃতা দেন।
১৯৭৪- মাহমুদ আলী সহ কয়েকজন পাকিস্তানিকে নিয়ে লন্ডনে পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধার কমিটির বৈঠক হয় । মক্কায় অনুষ্ঠিত রাবেতায়ে ইসলামীর সম্মেলনে বাংলাদেশ উদ্ধার নিয়ে বক্তৃতা দেন।
১৯৭৫- একাত্তর সালের পর আত্নগোপনে চলে যাওয়া জামাত নেতারা আস্তে আস্তে দেশে ফিরতে শুরু করে । কুখ্যাত যুদ্ধপরাধী শাহ আজিজুর রহমান দেশে ফিরেন । পরে তিনি বিএনপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।
১৯৭৬- সরকার এক প্রেসনোটে নাগরিক্ত্ব ফেরত পাওয়ার জন্য ইচ্ছুক ব্যাক্তিদের আবেদন জানাতে বলেন। গোলাম আজম সাথে সাথে আবেদন করেন এবং প্রত্যাখাত হয়।
১৯৭৭- গোলাম আজম আবারো নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন এবং প্রত্যাখ্যাত হয় ।
১৯৭৮- গোলাম আজম পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে কোনো ভিসা ছাড়াই ১১ জুলাই ঢাকা আসেন । মায়ের অসুস্থতার জন্য মানবিক কারনে তাকে ৩ মাসের অনুমতি দেওয়া হয় । এরপর ৭৮ থেকে ৯৪ সাল পর্যন্ত অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাস করেন ।
১৯৭৯- ঢাকায় একটা কনভেনশনের মাধ্যমে “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ” গঠিত হয়। গোপনে গোলাম আজমকে আমীর করে আব্বাস আলী খানকে ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
১৯৮০- প্রথমবারের মত বায়তুল মোকারমের সামনে জামাতের সভা হয়। প্রকাশ্যে এটাই তাদের প্রথম সম্মেলন।
১৯৮১- জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খান এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন “একাত্ততে আমরা যা করেছি ঠিকই করেছি। একাত্তরে বাংলাদেশ কনসেপ্ট ঠিক ছিলোনা”।
১৯৮২- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলোতে জামাত দ্রুত প্রবেশ করতে থাকে। কাদের মোল্লা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়।
১৯৮৩- দলের রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে ব্যাস্ত থাকে দলটি।
১৯৮৪- জামাতের সাবেক আমির মাওলানা আবদুর রহিম জামাত ছেড়ে ইসলামী ঐক্য (জোট) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
১৯৮৫- এরশাদ সরকারের সাথে দলটার সখ্যতা গড়ে উঠে। কাদের মোল্লা ঢাকা মহানগর আমির নির্বাচিত হয়।
১৯৮৬- এরশাদ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহন করে ১০ টা আসন পায়।
১৯৮৭- সাংঘঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়।
১৯৮৮- অনেকদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর জামাতের ছাত্র সংঘঠন শিবির নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে উঠে। চট্টগ্রাম রাজশাহী সহ বিভিন্ন জেলায় তাদের ট্রেডমার্ক রগ কাটার রাজনীতি শুরু করে।
১৯৮৯- তৎপর হয়ে উঠে জামাত। সাংঘঠনিক কার্যক্রম বাড়াতে থাকে।
১৯৯০- এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। টিভিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা নেতৃরা বক্তৃতা বিবৃতি দেন । জামাতের নেতারাও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে টিভিতে আসেন! সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
১৯৯১- নির্বাচনে রেকর্ড ১৮ টি আসনে জিতে নেয় ! কুলুষিত হয় মহান জাতীয় সংসদ । নাগরিকত্বহীন গোলাম আজমকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জামাত আমির ঘোষনা করে।
১৯৯২- বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা জামাতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। বিজেপি বিরোধী আন্দোলন করে গণহারে রাস্তায় নেমে আসে। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করে। একই বছর জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি গঠিত হয়। গোলাম আজমকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য ঘোষনা করা হয়।
১৯৯৩- গণাদালতের কারণে কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। নিজামী,কাদেরমোল্লা সাইদী, কামরুজ্জামান, আব্দুল আলীম সহ আট জনকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য ঘোষনা করে।
১৯৯৪- সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ে গোলাম আজম জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ফিরে পান ।
১৯৯৫- ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হলেও এবছর জামাত প্রথমবারের মত একদিন হরতাল দেয়।
১৯৯৬- সালে জামাত এবং আওয়ামীলীগ তত্ববধাক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। একসাথে আন্দোলন করেছেন, তবে রাজনৈতিক জোট হিসেবে নয়। নির্বাচনে জামাত একাই লড়েছিল।
১৯৯৭- রাজনীতিতে জামাত শিকড় গেড়ে ফেলেছে। শিবির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, সাইদী ব্যাপক ভাবে ওয়াজ নসিহত শুরু করেন।
১৯৯৮- বিএনপির সাথে মতৈক্যে আসে দলটি।
১৯৯৯- বিএনপির সাথে ৪ দলীয় জোট গঠন করে। পায়ের নিচে শক্ত মাটি পায়। দেশের মানুষ চূড়ান্তভাবে হতাশ হয়।
২০০০- জামায়াত রাজনৈতিক হাইওয়েতে উঠে যাওয়ায় নিশ্চিন্তে রাজনীতি থেকে অবসর নেন গোলাম আজম। দলের নতুন আমীর হন মতিউর রহমান নিজামী।
২০০১- নির্বাচনে ১৮ টি আসন লাভ করে। এরপর ঘটে জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক ঘটনা। দলের শীর্ষ দুই নেতা নিজামী এবং মুজাহীদ মন্ত্রিত্ব লাভ করে! গাড়িতে উড়ায় জাতীয় পতাকা !!
২০০২- শিকড় বাকড় ছড়াতে থাকে একেবারে ক্ষমতায় থেকে। নেতারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও বক্তৃতা বিবৃতি দেন !!
২০০৩- সাইদী ওয়াজ নসিহত চলতে থাকে ।
২০০৪- শুরু করে জঙ্গী তৎপরতা। জঙ্গী দলগুলোর সাথে গড়ে তোলে সুসম্পর্ক । জামাতের আমন্ত্রনে পাকিস্তান জামাতে ইসলামীর শীর্যস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে আসেন। তারা শিরিরের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন।
২০০৫- নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। শুধুমাত্র ভারতীয় কোম্পানী বলে টাটার ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিজামী (উইকিলিকস)।
২০০৬- জামাতের তান্ডবময় একটা বছর।
২০০৭- নতুন প্রজন্ম জমাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে থাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাতকে নির্বাচন করতে দেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন। ২৫ অক্টোবর মিডিয়ায় কাদের মোল্লা বলেন মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে গিয়েছেন নারী এবং সম্পত্তির লোভে ! দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
২০০৮- নির্বাচনে জামতের লেজেগোবরে অবস্থা। শুধুমাত্র যুদ্ধপরাধীদের বিচার হবে এজন্য তরুন প্রজন্মের ভোটে আওয়ামীলীগের বিপুল ব্যাবধানে জয়লাভ।
২০০৯- মহান জাতীয় সংসদে একজন সংসদ সদস্য যুদ্ধপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব পেশ করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
২০১০- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। গ্রেপ্তার হতে থাকে অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা। জনগন আশাবাদী হয়ে ওঠে। জামাত

২০১১- দেশ বিদেশে ট্রাইবুনালের নামে অপপ্রচার চালাতে থাকে। একই সাথে প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করে চলতে থাকে আন্তর্জাতিক লবিং।
উভয় পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৩- যুদ্ধাপরাধীদের একেরপর এক ফাঁসির আদেশ দেওয়া শুরু হয় এবং তা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হয়। প্রধান প্রধান নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে ফাঁসি দেওয়া হয়।
নেতাদের ফাঁসি হবার পর দলটির কর্মকাণ্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং ২০১৪-২০২৪ পর্যন্ত প্রায় অন্তরালে থেকে কর্ম তৎপরতা চালাতে থাকে। ফলে এই ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে দলটির অনেক কর্মী আওয়ামী লীগ -ছাত্রলীগে ঢুকে পড়ে। গোপনে গোপনে সুযোগ খুঁজতে থাকে।
আওয়ামী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যায়-অত্যাচারে সাধারণ জনগণ অতিষ্ট হয়ে ওঠে। কোটা সংস্কার দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয় তা পরবর্তীতে সরকার পতনের আন্দোলনের রূপ নেয় এবং সরকারের পতন ঘটে।
২০২৪ সালের এই ছাত্র আন্দোলনে জামাতে ইসলাম নামধারী এই পথভ্রস্ট দলটি প্রকাশ্য ভূমিকা রাখে ফলে অন্তর্বতীকালিন সরকার গঠনেও তাদের মতামত প্রাধান্য পায়। মি: ইউনুস এই সরকারের প্রধান হন এবং জুলাই আন্দোলনের পুরস্কার হিসাবে কয়েকজন ছাত্র নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় যারা জামাতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মওদুদির মতাদর্শে বিশ্বাসী। ফলে তাদের ১৭ মাস শাসনামলে দেশের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে একচেটিয়াভাবে মওদুদী মতবাদে বিশ্বাসীদের নিয়োগ দেয়া হয়।
উল্লেখ্য যে ইউনুস সরকারের এই ১৭ মাসের দু:শাসনে জনগণ অতিষ্ট হয়ে ওঠে। আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি, দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি, চাঁদাবাজি, অর্থ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার প্রভৃতি পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকারেরই আরেক রূপ জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। ফলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আসছিলো।
অভিযোগ ওঠে এই সময়ে বিএনপির লোকজন চাঁদাবাজিতে জড়িত হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ জনমনে তাদেরকে ভোট দিবার বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ দেখা দেয়। কিন্তু তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং ১৮ মিনিটের যে বলিষ্ঠ ভাষন প্রদান করেন তাতে জনগণ আশার আলো দেখতে পায়। বিএনপির চেয়ারপারসনের মৃত্যু এবং তার জানাজায় যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের বিপুল লোকের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
১২ ফেব্রুয়ারী/২০২৬ নির্বাচনের আগে জামাতে ইসলাম, এনসিপি দলের প্রচার-প্রবাগাণ্ডা, আস্ফালন প্রভৃতি দৃষ্টে এমতো আশংকা করা হচ্ছিল যে সম্ভবত এবার ইসলাম ধর্মের পথভ্রস্ট এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি বাংলাদেশের মসনদে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা ছিলো অন্যরকম তার জন্য পরমপ্রভুপালয়িতার সকাশে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যে দেশকে অন্তত:পক্ষে এই চক্রান্তকারি মোনাফিক পথভ্রষ্ট দলটির হাত থেকে দেশের সাধারণ মানুষের ইমান-আমল হেফজত করেছেন।
বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল হিসাবে এই দলটি সংসদে বসবে। মনে করা হয় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে অন্তত:পক্ষে ৫০ টি সিট বেশি পেয়েছে। জামাত ও জামাত জোট এনসিপিসহ ৭৭ টি আসন লাভ করে যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। স্বাধীনতার প্রকাশ্য শত্রু এই দলটির আচার-আচরণ, কথাবার্তায় এটা বার বার প্রকাশ হয়ে পরে। যেমন এই সাম্প্রতিককালে অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই প্রথমবার এনসিপি ও জোটের অন্যান্য সদস্যসহ জামাতের আমির ড. শফিকুর রহমান পুষ্পস্তবক অর্পন করার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিলো, স্বাধীনতার এতো বছর পর এই প্রথমবারের জন্য এখানে আগমনের কারণ কি, ড. শফিকুর রহমান অত্যন্ত বিরক্তির সাথে বলেন,” রাস্ট্রীয় আচার হিসাবে এটা আমার দায়িত্ব বিরোধী দলের নেতা হিসাবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে তাই এসেছি। “ অর্থাৎ তার কথা থেকে এটাই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে পাকিস্তান প্রীতি তার মন-মগজ ও মজ্জার মধ্যেই নিহিত।
তাই এই পথভ্রস্ট মওদুদিবাদিদের চক্রান্ত থেকে আমাদেরকে যথাসম্ভব সাবধান থাকতে হবে, যাতে তাদের কূট কথায় বিভ্রান্ত না হই এবং যাতে করে মওদুদির ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাষ থেকে দূরে থেকে আমাদের ইমান-আকিদা হেফাজত হয়। আল্লাহুম্মা আমিন।

 

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

এক নজরে জামায়াতের ঘৃণ্য ইতিহাস (১৯৪১-২০২৬ ইং)

আপডেট সময় ০৫:৩০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট অখণ্ড ভারতের লাহোরে” জামাতে ইসলামী হিন্দ” নামে ইসলামের মুখোসে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে কম্যুনিস্ট বিরোধী শক্তি হিসাবে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদিদের মদদপুষ্ট হয়ে এ দলটি গঠিত হয়। এখনও বৃটিশদের সাথে এই পথভ্রস্ট দলটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
ইসলামের সাথে এর দূরবর্তী কোনো সম্পর্কও নেই বরং এটি একটি শিয়া, খারেজি-রাফেজি, মোতাজেলী, ওহাবী-সালাফি, কাদিয়ানীদের মতো একটি পথভ্রস্ট দল যারা নবী-রসূল সাহাবাদের সম্মান দিতে জানেনা। মওদুদির তার বিভিন্ন বই-পুস্তকে নবী-রসূল ও সাহাবাদের সমালোচনা করে, তার ফলে সে এবং তার মতাদর্শে বিশ্বাসীগণ সুন্নত ওয়াল জামাত থেকে বহিঃষ্কৃত হয়ে একটি পথভ্রস্ট দলে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রমাণসহ বহু প্রজ্ঞাবান আলেমের লিখিত বিবৃতি আছে যে, তারা গোমরাহি বা পথভ্রস্ট একটি দল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরি র. এঁর “ ভুল সংশোধন,” মাওলানা হাফেজ্জী হুজুরের ৪৫২ জন আলেমের দস্তক্ষত সম্বলিত কিতাব “সতর্ক বাণী” প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
তাদের বই- পুস্তকে এর বহু প্রমাণ পাওয়া যায় যেমন আবুল আলা মওদুদি লিখিত বিভিন্ন কিতাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, তাহফিমূল কোরআন, খেলাফতে মুলকিয়াত, ইসলামি রেঁনেসা আন্দোলন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এই কিতাবগুলো তে নবী স. এঁর সন্মানিত সহচরবৃন্দের বিষোদগার করা হয় এমনকি নবী-রাসুলদেরও সমালোচনা করা থেকে লানতপাপ্ত মওদুদি বিরত হয় নাই। ফলে সে এবং তার মতবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা -বিশ্বাস থেকে বহিষ্কৃত হয়ে একটি পথভ্রষ্ট দলে পরিণত হয়। তাই ইমান-আকিদা হেফাজত করার জন্য এই দলটি এবং এই দলের লোকদের থেকে সবিশেষ সাবধান থাকতে হবে।
দলটির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীর জন্ম ভারতের আওরঙ্গবাদে, বর্তমান হায়দারাবাদ, মহারাষ্ট্র। ব্যাক্তিগত দর্শনই এই দলটার রাজনৈতিক দর্শন। শুধু তাই নয়; জামাতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবু আলা মওদুদীর পুত্র সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী পাকিস্তানের রয়েল টেলিভিশনে গত ২৮ মে ২০১১ ইং এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জামায়াত ধর্মব্যবসায়ী এবং অত্যাচারী। সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী বলেছেন, আমার বাবা কখনও আমাদেরকে রাজনীতির সাথে জড়াতে দেননি। এছাড়া তিনি জামায়াত সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়ে সত্য উন্মোচন করেছেন এখানে।
জামায়াতের এই প্রতিষ্ঠাতা মওদুদি ইসলাম সম্পর্কেও অনেক নেক্কার জনক কথা বলেছেন। কোরআনের অনেক অপব্যাখ্যা করেছেন যা সর্বজন স্বীকৃত। তার কয়েকটি নমুনা এখানে তুলে ধরছি। তার এসব ধর্মবিকৃতি মনোভাব দেখলেই বুঝতে পারা যায় যে তারা আসলে ইসলামের নামে কি করছে।
০১. “গণতন্ত্র বিষাক্ত দুধের মাখনের মত” – মওদূদী, সিয়াসি কসমকস, তৃতীয় খন্ড, পৃঃ ১৭৭
০২. “গণতন্ত্রএর মাধ্যমে কোনো সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ইসলাম অনুযায়ী হারাম” – রাসায়েল ও মাসায়েল । লেখক মওদূদী -প্রথম সংঙ্করণ, ৪৫০ নং পৃষ্ঠা। ০৩. “সময়ে সময়ে মিথ্যা বলা শুধু জায়েজই নয় বরং অবশ্য কর্তব্য” – আবুল আলা মওদূদী, তরজমানুল কোরআন, মে ১৯৫৮!
কথায় আর কাজে এক রকম না হলে তাকে মোনাফিক বলা হয়। গণতন্ত্রের মাধ্যমে নির্বচন করে প্রার্থী হওয়া হারাম বলে আবার সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে মন্ত্রি হওয়া এটাই প্রমাণ করে যে মিথ্যাবাদি এই দলটি ইসলামের ছব্দাবরণে শয়তানের অনুসারী একটি দল যা আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে অহরহ ধোঁকা দিয়ে আসছে। এ পথভ্রস্ট দলটি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ছল-চাতুরির আশ্রয় নেয় কেবলমাত্র রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল করার উদ্দেশ্য। সাধারণ মানুষকে ইসলামের নামে ধোঁকা দিয়ে ছলেবলে কৌশলে কেবলমাত্র ক্ষমতায় যাওয়াই এই দলটির লক্ষ।
জামায়াতের ঘৃণ্য ইতিহাস (১৯৪১-২০২৬)
১৯৪১- এ জন্মের সাথে সাথে এরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধীতা করতে থাকে । মওদূদী ফতোয়া দেন পাকিস্তান রাষ্ট প্রতিষ্ঠার দাবী করা সবাই, মুসলীম লীগ, জিন্নাহ এরা কেউই “খাটি মুসলিম” না । মাথায় রাখেন ৭১ সালেও গণ হত্যার সময় “খাটি মুসলিম” তত্ব ব্যাবহার করা হয়েছে ।
১৯৪২- লাহোর থেকে হেডকোয়ার্টার ভারতের পাঠানকোটে স্থানান্তর ।
১৯৪৩- মাসিক “তরজমানুল কোরআন” ম্যাগাজিনের মাধ্যমে নিজেদের মতবাদ প্রচার করতে থাকে। এই ম্যাগাজিনের ফেব্রুয়ারী সংখ্যায় মওদূদী পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে লিখেন, পাকিস্তান নামক কোনো রাষ্ট্রের জন্ম হলে সেটা “আহাম্মকের বেহেশত” এবং “মুসলমানদের কাফেরানা রাষ্ট্র” হবে। *পাকিস্তানের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধীতা করে দলটি।
১৯৪৪- দল দ্রুত সংঘঠিত হতে থাকে । দ্রুত বাড়তে থাকে সদস্য সংখ্যা ।
১৯৪৫- অবিভক্ত ভারতে সর্বপ্রথম কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় ।
১৯৪৬- কয়েকজন আলেমকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়।
১৯৪৭- দেশভাগের সাথে সাথে লাহোরে প্রধাণ কার্যালয় স্থানান্তর । অথচ এর আগে পর্যন্ত পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের চরম বিরোধীতা করে। পাকিস্তানে যাওয়ার পর পাকিস্তানের কাশ্মীরের জন্য আন্দোলন করাকে হারাম ঘোষণা দেয়।
১৯৪৮- ইসলামী সংবিধান ও ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচারণা শুরু করে। এর পর পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে মওদূদীকে কারাবন্দী করে । *এ বছর পূর্বপাকিস্তানে জামাতের কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৪৯- পাকিস্তান সরকার আগে বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত জামাতের “ইসলামী সংবিধানের রূপরেখা” গ্রহণ করে । পরে পাকিস্তান জামাত প্রভাবিত সংবিধান প্রণয়ন করে ।
১৯৫০- পরের বছর পাঞ্জাবের প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য ব্যাপক প্রচারণা । মওদূদী জেল থেকে মুক্তি পান ।
১৯৫১- পাঞ্জাবের প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভরাডুবি ।
১৯৫২- গোলাম আজম ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন । পরে ১৯৭০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুর শহরে এক সংবর্ধণা সভায় তিনি বলেন “উর্দূ পাক-ভারত উপমহাদেশের মানুষের সাধারণ ভাষা। ৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া তার মারাত্নক ভুল ছিলো। বাংলা ভাষা আন্দোলন মোটেও সঠিক কাজ হয়নি। তিনি এজন্য দুঃখিত” সূত্র : দৈনিক আজাদ ২০ জুন ১৯৭০/ সাপ্তাহিক গণশক্তি ২১ জুন ১৯৭০/ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস- ডঃ মোহাম্মদ হান্নান, পৃঃ ৩৯৯
১৯৫৪- গোলাম আজম জামাতে যোগ দেন । প্রথম দিকে পূর্বপাকিস্তানে জামাতের অবস্থান মজবুত না থাকলেও, গোলাম আজম যোগ দেওয়ার সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তানে দল চাঙ্গা হয়ে উঠে ।
১৯৫৫- ১৯৪৭ সালে গঠিত “জামায়াত ই তালেবর” নাম পরিবর্তন করে “ইসলামী ছাত্রসংঘ” নামে আত্নপ্রকাশ করে। মাওলানা আবদুর রহীম পূর্ব পাকিস্তানের আমির নির্বাচিত হন (পরে তিনি ভুল বুঝতে পেরে জামাতের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেন)
১৯৫৬- পূর্ব পাকিস্তানে কার্যক্রম শুরু করে ইসলামী ছাত্রসংঘ।
১৯৫৭- সালে গোলাম আজমকে পূর্ব পাকিস্তান জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল নিজুক্ত করা হয় । আমির ছিলেন মাওলানা আবদুর রহিম ।
১৯৫৮- আইয়ুব খান জামায়াতে ইসলামী সহ সকল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষনা করে । ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এই ফরমান বলবৎ ছিল।
১৯৬২- মুসলিম পারিবার আইনের বিরোধীতা করেন। শিক্ষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
১৯৬৩- মুসলিম পারিবারিক আইন নিয়ে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ।
১৯৬৪- ৪ জানুয়ারী জামাতের সকল কর্মকান্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় । *নিষিদ্ধ হয় জামায়াত । মওদুদী সহ ৬০ জন জামাত নেতাকে গ্রেফতার করা হয় । যার ভিতর গোলাম আজম একজন । অক্টোবরেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় ।
১৯৬৫- নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহর পরাজয় ঘটলে দল কোনঠাসা হয়ে পড়ে।
১৯৬৬- শেখ মুজিবের ৬ দফার বিরোধীতা করে। এই দফাগুলোকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে অখ্যায়িত করে ।
১৯৬৭- শেখ মুজিবের ৬ দফার ভিত্তিতে যখন পূর্ব পাকিস্তানে প্রবল গণ আন্দোলন শুরু হয়, তখন জামাত ৫ দফা নামে আরেকটা আন্দোলন শুরু করে গণ আন্দোলন ব্যাহত করার চেষ্টা করে।
১৯৬৮- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তান উত্তাল হয়ে উঠে । সারা পাকিস্তানে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে। এর ভিতরেই জামাত আইয়ুব খানের আস্থা অর্জন করে নেয় ।
১৯৬৯- গণ অভ্যুথানের সময় রহস্যজনক রাজনৈতিক অবস্থান । গোলাম আজম পূর্ব পাকিস্তানের আমির হন ।
১৯৭০- পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫১ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৪ টি আসন জিতে নেয় । সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী দেয় আওয়ামীলীগ এবং তারা সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভও করে । তৃতীয় সর্বোচ্চ আসনে (১২০) পার্থী দেয় ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি।
১৯৭১- একাত্তরের জামাত নিয়ে কয়েক লাইনে শেষ করা অসম্ভব । তারপও দুই এক লাইন লিখা অনস্বীকার্য । ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষায় ঢাকায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয় । কয়েকদিন আগে উদ্ধার হওয়া একটা নথিঁতে দেখা যায় এই কমিটির ১ নম্বর সদস্য হচ্ছেন গোলাম আজম । নথিঁটা দীর্ঘদিন যাবত পুরান ঢাকার এক ভদ্রলোক সংরক্ষণ করেছিলেন । পরে নথিঁটা তিনি আন্তর্জাতিক যুদ্ধপরাধ ট্রাইবুনালে জমা দেন । ৩০ জুন লাহোরে গোলাম আজম বলেন তার দল মুক্তিযোদ্ধাদের (দুস্কৃতকারীদের) দমন করার জন্য সর্বাত্নক চেষ্টা চালাচ্ছে । দলের নেতৃত্বে গঠন করা হয় আলবদর রাজাকার । সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আবদুল মালেকের নেতৃত্বে প্রাদেশিক সরকার গঠন করা হয় । জামাতের সাবেক আমীর আব্বাস আলী খান এই সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন । ১৯৭১ সালে সংঘঠিত ইতিহাসের বৃহত্তম গণহত্যার জন্য দলটা কোনো ক্ষমা চায়নি । বরং গোলাম আজম দম্ভের সাথে জানিয়ে দেন একাত্তরের জন্য তারা অনুতপ্ত নয় । বরং তারা যা করেছে ঠিক করেছে ।
১৯৭২- গোলাম আজমের উদ্যোগে পাকিস্তানে পালিত হয় “পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার সপ্তাহ” এরপর লন্ডন গিয়ে সেখানে “পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধার কমিটি ” নামে একটা কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি বাংলাদেশকে উদ্ধার করে আবার পূর্ব পাকিস্তান করার সর্বাত্নক চেষ্টা চালায়। ডিসেম্বরে সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে অংশ নিয়ে সকল মুসলিম রাষ্ট্রকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে, এবং যুদ্ধ বিদ্ধস্ত মানুষের সহায়তায় কোনো প্রকার আর্থিক সাহায্য না দিতে আহবান জানান।
১৯৭৩- সরকারী এক আদেশে ৩৮ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয় । এর একজন গোলাম আজম । গোলাম আজম মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো সফর শুরু করেন। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে এবং পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধারে সহায়তা চান। ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন অব স্টুডেণ্টস ইসলামিক সোসাইটির সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধারের বিষয়ে বক্তৃতা দেন।
১৯৭৪- মাহমুদ আলী সহ কয়েকজন পাকিস্তানিকে নিয়ে লন্ডনে পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধার কমিটির বৈঠক হয় । মক্কায় অনুষ্ঠিত রাবেতায়ে ইসলামীর সম্মেলনে বাংলাদেশ উদ্ধার নিয়ে বক্তৃতা দেন।
১৯৭৫- একাত্তর সালের পর আত্নগোপনে চলে যাওয়া জামাত নেতারা আস্তে আস্তে দেশে ফিরতে শুরু করে । কুখ্যাত যুদ্ধপরাধী শাহ আজিজুর রহমান দেশে ফিরেন । পরে তিনি বিএনপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।
১৯৭৬- সরকার এক প্রেসনোটে নাগরিক্ত্ব ফেরত পাওয়ার জন্য ইচ্ছুক ব্যাক্তিদের আবেদন জানাতে বলেন। গোলাম আজম সাথে সাথে আবেদন করেন এবং প্রত্যাখাত হয়।
১৯৭৭- গোলাম আজম আবারো নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন এবং প্রত্যাখ্যাত হয় ।
১৯৭৮- গোলাম আজম পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে কোনো ভিসা ছাড়াই ১১ জুলাই ঢাকা আসেন । মায়ের অসুস্থতার জন্য মানবিক কারনে তাকে ৩ মাসের অনুমতি দেওয়া হয় । এরপর ৭৮ থেকে ৯৪ সাল পর্যন্ত অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাস করেন ।
১৯৭৯- ঢাকায় একটা কনভেনশনের মাধ্যমে “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ” গঠিত হয়। গোপনে গোলাম আজমকে আমীর করে আব্বাস আলী খানকে ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
১৯৮০- প্রথমবারের মত বায়তুল মোকারমের সামনে জামাতের সভা হয়। প্রকাশ্যে এটাই তাদের প্রথম সম্মেলন।
১৯৮১- জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খান এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন “একাত্ততে আমরা যা করেছি ঠিকই করেছি। একাত্তরে বাংলাদেশ কনসেপ্ট ঠিক ছিলোনা”।
১৯৮২- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলোতে জামাত দ্রুত প্রবেশ করতে থাকে। কাদের মোল্লা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়।
১৯৮৩- দলের রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে ব্যাস্ত থাকে দলটি।
১৯৮৪- জামাতের সাবেক আমির মাওলানা আবদুর রহিম জামাত ছেড়ে ইসলামী ঐক্য (জোট) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
১৯৮৫- এরশাদ সরকারের সাথে দলটার সখ্যতা গড়ে উঠে। কাদের মোল্লা ঢাকা মহানগর আমির নির্বাচিত হয়।
১৯৮৬- এরশাদ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহন করে ১০ টা আসন পায়।
১৯৮৭- সাংঘঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়।
১৯৮৮- অনেকদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর জামাতের ছাত্র সংঘঠন শিবির নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে উঠে। চট্টগ্রাম রাজশাহী সহ বিভিন্ন জেলায় তাদের ট্রেডমার্ক রগ কাটার রাজনীতি শুরু করে।
১৯৮৯- তৎপর হয়ে উঠে জামাত। সাংঘঠনিক কার্যক্রম বাড়াতে থাকে।
১৯৯০- এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। টিভিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা নেতৃরা বক্তৃতা বিবৃতি দেন । জামাতের নেতারাও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে টিভিতে আসেন! সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
১৯৯১- নির্বাচনে রেকর্ড ১৮ টি আসনে জিতে নেয় ! কুলুষিত হয় মহান জাতীয় সংসদ । নাগরিকত্বহীন গোলাম আজমকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জামাত আমির ঘোষনা করে।
১৯৯২- বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা জামাতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। বিজেপি বিরোধী আন্দোলন করে গণহারে রাস্তায় নেমে আসে। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করে। একই বছর জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি গঠিত হয়। গোলাম আজমকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য ঘোষনা করা হয়।
১৯৯৩- গণাদালতের কারণে কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। নিজামী,কাদেরমোল্লা সাইদী, কামরুজ্জামান, আব্দুল আলীম সহ আট জনকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য ঘোষনা করে।
১৯৯৪- সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ে গোলাম আজম জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ফিরে পান ।
১৯৯৫- ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হলেও এবছর জামাত প্রথমবারের মত একদিন হরতাল দেয়।
১৯৯৬- সালে জামাত এবং আওয়ামীলীগ তত্ববধাক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। একসাথে আন্দোলন করেছেন, তবে রাজনৈতিক জোট হিসেবে নয়। নির্বাচনে জামাত একাই লড়েছিল।
১৯৯৭- রাজনীতিতে জামাত শিকড় গেড়ে ফেলেছে। শিবির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, সাইদী ব্যাপক ভাবে ওয়াজ নসিহত শুরু করেন।
১৯৯৮- বিএনপির সাথে মতৈক্যে আসে দলটি।
১৯৯৯- বিএনপির সাথে ৪ দলীয় জোট গঠন করে। পায়ের নিচে শক্ত মাটি পায়। দেশের মানুষ চূড়ান্তভাবে হতাশ হয়।
২০০০- জামায়াত রাজনৈতিক হাইওয়েতে উঠে যাওয়ায় নিশ্চিন্তে রাজনীতি থেকে অবসর নেন গোলাম আজম। দলের নতুন আমীর হন মতিউর রহমান নিজামী।
২০০১- নির্বাচনে ১৮ টি আসন লাভ করে। এরপর ঘটে জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক ঘটনা। দলের শীর্ষ দুই নেতা নিজামী এবং মুজাহীদ মন্ত্রিত্ব লাভ করে! গাড়িতে উড়ায় জাতীয় পতাকা !!
২০০২- শিকড় বাকড় ছড়াতে থাকে একেবারে ক্ষমতায় থেকে। নেতারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও বক্তৃতা বিবৃতি দেন !!
২০০৩- সাইদী ওয়াজ নসিহত চলতে থাকে ।
২০০৪- শুরু করে জঙ্গী তৎপরতা। জঙ্গী দলগুলোর সাথে গড়ে তোলে সুসম্পর্ক । জামাতের আমন্ত্রনে পাকিস্তান জামাতে ইসলামীর শীর্যস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে আসেন। তারা শিরিরের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন।
২০০৫- নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। শুধুমাত্র ভারতীয় কোম্পানী বলে টাটার ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিজামী (উইকিলিকস)।
২০০৬- জামাতের তান্ডবময় একটা বছর।
২০০৭- নতুন প্রজন্ম জমাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে থাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাতকে নির্বাচন করতে দেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন। ২৫ অক্টোবর মিডিয়ায় কাদের মোল্লা বলেন মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে গিয়েছেন নারী এবং সম্পত্তির লোভে ! দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
২০০৮- নির্বাচনে জামতের লেজেগোবরে অবস্থা। শুধুমাত্র যুদ্ধপরাধীদের বিচার হবে এজন্য তরুন প্রজন্মের ভোটে আওয়ামীলীগের বিপুল ব্যাবধানে জয়লাভ।
২০০৯- মহান জাতীয় সংসদে একজন সংসদ সদস্য যুদ্ধপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব পেশ করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
২০১০- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। গ্রেপ্তার হতে থাকে অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা। জনগন আশাবাদী হয়ে ওঠে। জামাত

২০১১- দেশ বিদেশে ট্রাইবুনালের নামে অপপ্রচার চালাতে থাকে। একই সাথে প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করে চলতে থাকে আন্তর্জাতিক লবিং।
উভয় পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৩- যুদ্ধাপরাধীদের একেরপর এক ফাঁসির আদেশ দেওয়া শুরু হয় এবং তা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হয়। প্রধান প্রধান নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে ফাঁসি দেওয়া হয়।
নেতাদের ফাঁসি হবার পর দলটির কর্মকাণ্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং ২০১৪-২০২৪ পর্যন্ত প্রায় অন্তরালে থেকে কর্ম তৎপরতা চালাতে থাকে। ফলে এই ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে দলটির অনেক কর্মী আওয়ামী লীগ -ছাত্রলীগে ঢুকে পড়ে। গোপনে গোপনে সুযোগ খুঁজতে থাকে।
আওয়ামী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যায়-অত্যাচারে সাধারণ জনগণ অতিষ্ট হয়ে ওঠে। কোটা সংস্কার দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয় তা পরবর্তীতে সরকার পতনের আন্দোলনের রূপ নেয় এবং সরকারের পতন ঘটে।
২০২৪ সালের এই ছাত্র আন্দোলনে জামাতে ইসলাম নামধারী এই পথভ্রস্ট দলটি প্রকাশ্য ভূমিকা রাখে ফলে অন্তর্বতীকালিন সরকার গঠনেও তাদের মতামত প্রাধান্য পায়। মি: ইউনুস এই সরকারের প্রধান হন এবং জুলাই আন্দোলনের পুরস্কার হিসাবে কয়েকজন ছাত্র নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় যারা জামাতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মওদুদির মতাদর্শে বিশ্বাসী। ফলে তাদের ১৭ মাস শাসনামলে দেশের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে একচেটিয়াভাবে মওদুদী মতবাদে বিশ্বাসীদের নিয়োগ দেয়া হয়।
উল্লেখ্য যে ইউনুস সরকারের এই ১৭ মাসের দু:শাসনে জনগণ অতিষ্ট হয়ে ওঠে। আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি, দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি, চাঁদাবাজি, অর্থ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার প্রভৃতি পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকারেরই আরেক রূপ জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। ফলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আসছিলো।
অভিযোগ ওঠে এই সময়ে বিএনপির লোকজন চাঁদাবাজিতে জড়িত হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ জনমনে তাদেরকে ভোট দিবার বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ দেখা দেয়। কিন্তু তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং ১৮ মিনিটের যে বলিষ্ঠ ভাষন প্রদান করেন তাতে জনগণ আশার আলো দেখতে পায়। বিএনপির চেয়ারপারসনের মৃত্যু এবং তার জানাজায় যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের বিপুল লোকের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
১২ ফেব্রুয়ারী/২০২৬ নির্বাচনের আগে জামাতে ইসলাম, এনসিপি দলের প্রচার-প্রবাগাণ্ডা, আস্ফালন প্রভৃতি দৃষ্টে এমতো আশংকা করা হচ্ছিল যে সম্ভবত এবার ইসলাম ধর্মের পথভ্রস্ট এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি বাংলাদেশের মসনদে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা ছিলো অন্যরকম তার জন্য পরমপ্রভুপালয়িতার সকাশে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যে দেশকে অন্তত:পক্ষে এই চক্রান্তকারি মোনাফিক পথভ্রষ্ট দলটির হাত থেকে দেশের সাধারণ মানুষের ইমান-আমল হেফজত করেছেন।
বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল হিসাবে এই দলটি সংসদে বসবে। মনে করা হয় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে অন্তত:পক্ষে ৫০ টি সিট বেশি পেয়েছে। জামাত ও জামাত জোট এনসিপিসহ ৭৭ টি আসন লাভ করে যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। স্বাধীনতার প্রকাশ্য শত্রু এই দলটির আচার-আচরণ, কথাবার্তায় এটা বার বার প্রকাশ হয়ে পরে। যেমন এই সাম্প্রতিককালে অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই প্রথমবার এনসিপি ও জোটের অন্যান্য সদস্যসহ জামাতের আমির ড. শফিকুর রহমান পুষ্পস্তবক অর্পন করার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিলো, স্বাধীনতার এতো বছর পর এই প্রথমবারের জন্য এখানে আগমনের কারণ কি, ড. শফিকুর রহমান অত্যন্ত বিরক্তির সাথে বলেন,” রাস্ট্রীয় আচার হিসাবে এটা আমার দায়িত্ব বিরোধী দলের নেতা হিসাবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে তাই এসেছি। “ অর্থাৎ তার কথা থেকে এটাই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে পাকিস্তান প্রীতি তার মন-মগজ ও মজ্জার মধ্যেই নিহিত।
তাই এই পথভ্রস্ট মওদুদিবাদিদের চক্রান্ত থেকে আমাদেরকে যথাসম্ভব সাবধান থাকতে হবে, যাতে তাদের কূট কথায় বিভ্রান্ত না হই এবং যাতে করে মওদুদির ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাষ থেকে দূরে থেকে আমাদের ইমান-আকিদা হেফাজত হয়। আল্লাহুম্মা আমিন।