শিরোনাম :
ঢাকায় ট্রাম্পের দূত সার্জিও গোর, তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফর মানবপাচার ও স্ক্যাম প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী গ্যাস সংকট, স্বাভাবিক হতে লাগবে দুই সপ্তাহ রুপিতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য চায় রাশিয়া মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশ মির্জা ফখরুলের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিশ্চিত হলে, সবকিছু ইতিবাচক হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার উন্নয়ন প্রকল্পে লাভের হিসাবে কারসাজি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ, রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান আন্দোলনকারীদের

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়োগপত্র পেলেন তিন প্রতিবন্ধী

সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে ঢোকার মুখেই আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে সরাসরি তুলে দিলেন সরকারি নিয়োগপত্র। দিনের শুরুতেই এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিয়মিত কর্মসূচি শুরু করেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
সরকারি সূত্র বলছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই বেছে নেওয়া হয় তিনজনকে—গাইবান্ধার সাঘাটার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদরের মো. হাসমত আলী।
হাসান শিপলুর ভাষ্যমতে, খোদ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়োগপত্র পেয়ে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি এই তিনজন। তাঁদের জীবনে দিনটি একইসঙ্গে বয়ে এনেছে নতুন পেশা আর নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস।
এই তিনজনের প্রত্যেকের সংগ্রামের গল্পও কম বিস্ময়কর নয়। নীলা খাতুনের জন্ম থেকেই দুটি হাত নেই, তবু দমে যাননি তিনি। পা দিয়ে লিখেই সম্পন্ন করেছেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। তাঁকে ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আয়শা আক্তারও হাত না থাকার প্রতিবন্ধকতা জয় করে পা দিয়ে লিখে শেষ করেছেন স্নাতকোত্তর পড়াশোনা। অনুষ্ঠানে তিনি মুখ দিয়ে ধরে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন। গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এদিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।
নিয়োগ পাওয়া তিনজনকে অভিনন্দন জানাতে ছুটে আসেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলালও। নিয়োগপত্র বিতরণ শেষ হতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে স্বপ্ন পূরণের এই তিনটি গল্প যেন এক বার্তাই দিচ্ছে—সদিচ্ছা আর সুযোগ থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই মেধা আর অধ্যবসায়ের পথে বাধা হতে পারে না।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ, রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান আন্দোলনকারীদের

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়োগপত্র পেলেন তিন প্রতিবন্ধী

আপডেট সময় ০২:৩১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে ঢোকার মুখেই আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে সরাসরি তুলে দিলেন সরকারি নিয়োগপত্র। দিনের শুরুতেই এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিয়মিত কর্মসূচি শুরু করেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
সরকারি সূত্র বলছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই বেছে নেওয়া হয় তিনজনকে—গাইবান্ধার সাঘাটার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদরের মো. হাসমত আলী।
হাসান শিপলুর ভাষ্যমতে, খোদ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়োগপত্র পেয়ে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি এই তিনজন। তাঁদের জীবনে দিনটি একইসঙ্গে বয়ে এনেছে নতুন পেশা আর নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস।
এই তিনজনের প্রত্যেকের সংগ্রামের গল্পও কম বিস্ময়কর নয়। নীলা খাতুনের জন্ম থেকেই দুটি হাত নেই, তবু দমে যাননি তিনি। পা দিয়ে লিখেই সম্পন্ন করেছেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। তাঁকে ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আয়শা আক্তারও হাত না থাকার প্রতিবন্ধকতা জয় করে পা দিয়ে লিখে শেষ করেছেন স্নাতকোত্তর পড়াশোনা। অনুষ্ঠানে তিনি মুখ দিয়ে ধরে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন। গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এদিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।
নিয়োগ পাওয়া তিনজনকে অভিনন্দন জানাতে ছুটে আসেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলালও। নিয়োগপত্র বিতরণ শেষ হতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে স্বপ্ন পূরণের এই তিনটি গল্প যেন এক বার্তাই দিচ্ছে—সদিচ্ছা আর সুযোগ থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই মেধা আর অধ্যবসায়ের পথে বাধা হতে পারে না।

Share this news as a Photo Card