শিরোনাম :
৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো রাজধানীর নদী দূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, ফাঁসকারীদের হুঁশিয়ারি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ এ মাসেই স্বাধীনতার দিন ঘোষণা

লোকসংগীত শিল্পী স্বাগত দে না ফেরার দেশে

বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী স্বাগত দে আর নেই। দীর্ঘদিনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা লোকসংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার আকস্মিকভাবে সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এই গুণী শিল্পী। ঘটনার পরপরই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। কয়েক দিন ধরে চলা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পর শেষরক্ষা হয়নি, বৃহস্পতিবার তিনি চিরবিদায় নেন।
শিল্পীর প্রয়াণের খবরটি প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান পরিচিত এক সংগীতশিল্পী, যিনি এক শোকবার্তায় লেখেন, তারাদের দেশে যেন ভালো থাকেন প্রিয় এই শিল্পী। এই বার্তা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শোকের বার্তায় ভরে ওঠে সামাজিক মাধ্যম। ভক্ত, অনুরাগী ও সহশিল্পীরা একে একে স্মৃতিচারণ করে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন প্রিয় শিল্পীর প্রতি।
সুরেলা কণ্ঠ আর আবেগমাখা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছিলেন স্বাগত দে। বিশেষত তাঁর গাওয়া দুটি গান শ্রোতামহলে অসামান্য জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, যার একটি জাদু ছড়ানো সুরের এক প্রেমের গান, আরেকটি ভালোবাসার মানুষকে সম্বোধন করে গাওয়া হৃদয়স্পর্শী এক পরিবেশনা। এই গান দুটির মাধ্যমে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন তিনি। তাঁর কণ্ঠের সেই জাদুকরী আবেদন কেবল প্রবীণ শ্রোতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল তাঁর পরিবেশিত লোকগান।
বাংলা লোকসংগীতের এক বিশাল সম্ভার তিনি রেখে গেছেন, যা বছরের পর বছর ধরে শ্রোতাদের মনে দোলা দিয়ে যাবে। গ্রামবাংলার মাটির গন্ধমাখা সুর আর সহজ-সরল কথার মিশেলে তিনি যে গানগুলো উপহার দিয়েছেন, তা লোকসংগীতপ্রেমীদের কাছে চিরকাল সমাদৃত থাকবে। তাঁর পরিবেশনার ভঙ্গি ছিল একেবারে নিজস্ব, যা তাঁকে অন্য শিল্পীদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
শিল্পীর আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংগীতাঙ্গনের বহু গুণীজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক শোকবার্তা প্রকাশ করে তাঁরা প্রয়াত শিল্পীর সঙ্গে কাটানো স্মৃতি তুলে ধরছেন। অনেকেই লিখেছেন, বাংলা লোকসংগীতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে রইল এই প্রয়াণ। তাঁর মতো কণ্ঠশিল্পী খুঁজে পাওয়া সহজ কথা নয় বলেও মন্তব্য করেছেন সহশিল্পীরা।
স্বাগত দের মৃত্যুর খবরে শোকাহত হয়ে পড়েছেন তাঁর অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীও। বহু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গাওয়া প্রিয় গানের কথা স্মরণ করে আবেগঘন মন্তব্য করছেন। কারও কাছে তাঁর কণ্ঠ ছিল শৈশবের স্মৃতি, কারও কাছে আবার ছিল আনন্দ-বেদনার সঙ্গী। এই আবেগের ঢেউ প্রমাণ করে, কতটা গভীরভাবে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন এই লোকশিল্পী।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্ট্রোকের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটছিল। যদিও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিলেন তাঁকে সুস্থ করে তুলতে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো তাঁর শেষকৃত্য সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বাংলা লোকসংগীতের এই নক্ষত্রের বিদায়ে শুধু তাঁর পরিবার নয়, শোকাহত হয়েছে গোটা সংগীতাঙ্গন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম, তাঁর অনন্য কণ্ঠস্বর আর মঞ্চ মাতানো পরিবেশনার স্মৃতি চিরদিন শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে। শারীরিকভাবে তিনি চলে গেলেও তাঁর সুরের ভুবন রয়ে যাবে অনন্তকাল, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যে সুরের মূর্ছনায় খুঁজে পাবে আপন সংস্কৃতির শেকড়।
প্রিয় এই লোকশিল্পীর বিদায়ে সংগীতপ্রেমী মানুষের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁর সুরের ভুবন যেন চিরকাল অম্লান থাকে শ্রোতাদের হৃদয়ে, এই প্রত্যাশাই এখন সবার কণ্ঠে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

এ মাসেই স্বাধীনতার দিন ঘোষণা

০৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

লোকসংগীত শিল্পী স্বাগত দে না ফেরার দেশে

আপডেট সময় ০৩:০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী স্বাগত দে আর নেই। দীর্ঘদিনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা লোকসংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার আকস্মিকভাবে সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এই গুণী শিল্পী। ঘটনার পরপরই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। কয়েক দিন ধরে চলা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পর শেষরক্ষা হয়নি, বৃহস্পতিবার তিনি চিরবিদায় নেন।
শিল্পীর প্রয়াণের খবরটি প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান পরিচিত এক সংগীতশিল্পী, যিনি এক শোকবার্তায় লেখেন, তারাদের দেশে যেন ভালো থাকেন প্রিয় এই শিল্পী। এই বার্তা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শোকের বার্তায় ভরে ওঠে সামাজিক মাধ্যম। ভক্ত, অনুরাগী ও সহশিল্পীরা একে একে স্মৃতিচারণ করে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন প্রিয় শিল্পীর প্রতি।
সুরেলা কণ্ঠ আর আবেগমাখা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছিলেন স্বাগত দে। বিশেষত তাঁর গাওয়া দুটি গান শ্রোতামহলে অসামান্য জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, যার একটি জাদু ছড়ানো সুরের এক প্রেমের গান, আরেকটি ভালোবাসার মানুষকে সম্বোধন করে গাওয়া হৃদয়স্পর্শী এক পরিবেশনা। এই গান দুটির মাধ্যমে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন তিনি। তাঁর কণ্ঠের সেই জাদুকরী আবেদন কেবল প্রবীণ শ্রোতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল তাঁর পরিবেশিত লোকগান।
বাংলা লোকসংগীতের এক বিশাল সম্ভার তিনি রেখে গেছেন, যা বছরের পর বছর ধরে শ্রোতাদের মনে দোলা দিয়ে যাবে। গ্রামবাংলার মাটির গন্ধমাখা সুর আর সহজ-সরল কথার মিশেলে তিনি যে গানগুলো উপহার দিয়েছেন, তা লোকসংগীতপ্রেমীদের কাছে চিরকাল সমাদৃত থাকবে। তাঁর পরিবেশনার ভঙ্গি ছিল একেবারে নিজস্ব, যা তাঁকে অন্য শিল্পীদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
শিল্পীর আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংগীতাঙ্গনের বহু গুণীজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক শোকবার্তা প্রকাশ করে তাঁরা প্রয়াত শিল্পীর সঙ্গে কাটানো স্মৃতি তুলে ধরছেন। অনেকেই লিখেছেন, বাংলা লোকসংগীতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে রইল এই প্রয়াণ। তাঁর মতো কণ্ঠশিল্পী খুঁজে পাওয়া সহজ কথা নয় বলেও মন্তব্য করেছেন সহশিল্পীরা।
স্বাগত দের মৃত্যুর খবরে শোকাহত হয়ে পড়েছেন তাঁর অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীও। বহু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গাওয়া প্রিয় গানের কথা স্মরণ করে আবেগঘন মন্তব্য করছেন। কারও কাছে তাঁর কণ্ঠ ছিল শৈশবের স্মৃতি, কারও কাছে আবার ছিল আনন্দ-বেদনার সঙ্গী। এই আবেগের ঢেউ প্রমাণ করে, কতটা গভীরভাবে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন এই লোকশিল্পী।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্ট্রোকের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটছিল। যদিও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিলেন তাঁকে সুস্থ করে তুলতে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো তাঁর শেষকৃত্য সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বাংলা লোকসংগীতের এই নক্ষত্রের বিদায়ে শুধু তাঁর পরিবার নয়, শোকাহত হয়েছে গোটা সংগীতাঙ্গন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম, তাঁর অনন্য কণ্ঠস্বর আর মঞ্চ মাতানো পরিবেশনার স্মৃতি চিরদিন শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে। শারীরিকভাবে তিনি চলে গেলেও তাঁর সুরের ভুবন রয়ে যাবে অনন্তকাল, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যে সুরের মূর্ছনায় খুঁজে পাবে আপন সংস্কৃতির শেকড়।
প্রিয় এই লোকশিল্পীর বিদায়ে সংগীতপ্রেমী মানুষের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁর সুরের ভুবন যেন চিরকাল অম্লান থাকে শ্রোতাদের হৃদয়ে, এই প্রত্যাশাই এখন সবার কণ্ঠে।

Share this news as a Photo Card