শিরোনাম :
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ: ৫৫ বছরে ১৮ জন, নতুন মুখের অপেক্ষা গ্যাস সংকট: ক্ষমা চেয়ে ব্যবসায়ীদের ‘মোরাল সাপোর্ট’ চাইলেন জ্বালানিমন্ত্রী ব্যক্তি পর্যায়ের লেনদেনও হবে বাংলা কিউআরে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ফখরুল, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি গ্যাস সংকট: তিন বছরের মধ্যে আরও ৩ এলএনজি টার্মিনাল করার পরিকল্পনা রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ আরও ১২ জেলায় চালু হলো অনলাইন ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া,ব্যাটিং-বোলিংয়ে স্বপ্নের মতো দিন বাংলাদেশের কেন ঢাকা শহর থেকে সরছে না বাস টার্মিনাল

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ফখরুল, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি

  • এস কে চন্দন
  • আপডেট সময় ০৭:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • 10

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে এই মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। দলটির সিনিয়র নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান স্বয়ং মনোনয়নপত্রটি জমা দিতে যান, যিনি একইসঙ্গে এই মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবকও।

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনের শুরুতেই তৎপর হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয় দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে চূড়ান্তভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকর্মীদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনন্দের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করছে দলটি। রিজভীর ভাষায়, কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই নির্বাচন ভবনমুখী হন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। মনোনয়নপত্র নিয়ে যাওয়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের মতো নেতারা। এছাড়া দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও হাবিব উন নবী খান সোহেলও উপস্থিত ছিলেন এই মনোনয়নপত্র জমাদানের কর্মযজ্ঞে। মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় সিইসির পাশে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদও। আনুষ্ঠানিকতা শেষে গোটা প্রতিনিধি দলটি নির্বাচন ভবন ত্যাগ করেন, যা রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে দিনভর আলোচনার খোরাক জোগায়।

এদিকে বিএনপির এই মনোনয়নপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি একই দিনে আরেকটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে নির্বাচন ভবনে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। ফলে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত হলো, যা এই নির্বাচনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের সাংগঠনিক, সংসদীয় ও প্রশাসনিক সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। দলীয় সূত্র বলছে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক পদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দলের মহাসচিবের পদ ছাড়াও তিনি সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি নেন।

সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বর্তাতে যাচ্ছে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের কাঁধে। একইসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদের হাতে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাচ্ছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির হাতে। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে যেন কোনো দায়িত্বশূন্যতা তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রদবদল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একসঙ্গে দলীয় ও প্রশাসনিক শীর্ষ পদ থেকে সরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে দলের হাল ধরে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই পদযাত্রা—মহাসচিবের চেয়ার থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের প্রার্থিতা পর্যন্ত—দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রদবদল এবং একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার এই জোড়া সিদ্ধান্ত সরকার পরিচালনার ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উভয় দিক বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, আর প্রতিটি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জমা দেওয়াই এই প্রক্রিয়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারিত এই নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা বেড়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা এবং ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদের প্রার্থিতা—এই দুই মনোনয়নের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ের একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করেছে।

মনোনয়নপত্র জমাদানের এই আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে নির্বাচন ভবন চত্বরে দিনভর ছিল সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড়। বিএনপির প্রতিনিধি দলের আগমন ও প্রস্থান, মনোনয়নপত্র জমাদানের মুহূর্ত এবং পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে রুহুল কবির রিজভীর কথোপকথন—পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল সুশৃঙ্খল ও সংক্ষিপ্ত। দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া পর্যন্ত সময়টুকু ছিল অত্যন্ত দ্রুতগতির, যা দলের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ও ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ারই প্রতিফলন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদের মতো সাংবিধানিক ও মর্যাদাপূর্ণ পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তের পর তার এই সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোকে অনেকেই রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সাংবিধানিক রীতি অনুসরণের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। একইসঙ্গে দলের অভ্যন্তরে দায়িত্ব হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটিও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যাতে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

আগামী কয়েক দিনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে, এরপর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দসহ অন্যান্য নির্বাচনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা এবং তার ছেড়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনগুলোতে দেশের রাজনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ: ৫৫ বছরে ১৮ জন, নতুন মুখের অপেক্ষা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

কেন ঢাকা শহর থেকে সরছে না বাস টার্মিনাল

১৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ফখরুল, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি

আপডেট সময় ০৭:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে এই মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। দলটির সিনিয়র নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান স্বয়ং মনোনয়নপত্রটি জমা দিতে যান, যিনি একইসঙ্গে এই মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবকও।

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনের শুরুতেই তৎপর হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয় দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে চূড়ান্তভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকর্মীদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনন্দের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করছে দলটি। রিজভীর ভাষায়, কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই নির্বাচন ভবনমুখী হন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। মনোনয়নপত্র নিয়ে যাওয়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের মতো নেতারা। এছাড়া দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও হাবিব উন নবী খান সোহেলও উপস্থিত ছিলেন এই মনোনয়নপত্র জমাদানের কর্মযজ্ঞে। মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় সিইসির পাশে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদও। আনুষ্ঠানিকতা শেষে গোটা প্রতিনিধি দলটি নির্বাচন ভবন ত্যাগ করেন, যা রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে দিনভর আলোচনার খোরাক জোগায়।

এদিকে বিএনপির এই মনোনয়নপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি একই দিনে আরেকটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে নির্বাচন ভবনে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। ফলে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত হলো, যা এই নির্বাচনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের সাংগঠনিক, সংসদীয় ও প্রশাসনিক সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। দলীয় সূত্র বলছে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক পদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দলের মহাসচিবের পদ ছাড়াও তিনি সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি নেন।

সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বর্তাতে যাচ্ছে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের কাঁধে। একইসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদের হাতে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাচ্ছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির হাতে। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে যেন কোনো দায়িত্বশূন্যতা তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রদবদল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একসঙ্গে দলীয় ও প্রশাসনিক শীর্ষ পদ থেকে সরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে দলের হাল ধরে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই পদযাত্রা—মহাসচিবের চেয়ার থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের প্রার্থিতা পর্যন্ত—দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রদবদল এবং একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার এই জোড়া সিদ্ধান্ত সরকার পরিচালনার ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উভয় দিক বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, আর প্রতিটি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জমা দেওয়াই এই প্রক্রিয়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারিত এই নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা বেড়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা এবং ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদের প্রার্থিতা—এই দুই মনোনয়নের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ের একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করেছে।

মনোনয়নপত্র জমাদানের এই আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে নির্বাচন ভবন চত্বরে দিনভর ছিল সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড়। বিএনপির প্রতিনিধি দলের আগমন ও প্রস্থান, মনোনয়নপত্র জমাদানের মুহূর্ত এবং পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে রুহুল কবির রিজভীর কথোপকথন—পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল সুশৃঙ্খল ও সংক্ষিপ্ত। দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া পর্যন্ত সময়টুকু ছিল অত্যন্ত দ্রুতগতির, যা দলের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ও ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ারই প্রতিফলন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদের মতো সাংবিধানিক ও মর্যাদাপূর্ণ পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তের পর তার এই সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোকে অনেকেই রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সাংবিধানিক রীতি অনুসরণের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। একইসঙ্গে দলের অভ্যন্তরে দায়িত্ব হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটিও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যাতে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

আগামী কয়েক দিনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে, এরপর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দসহ অন্যান্য নির্বাচনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা এবং তার ছেড়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনগুলোতে দেশের রাজনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ।

Share this news as a Photo Card