কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। কমিটি গঠনে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে জয়মনিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির পার্টি অফিসে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জয়মনিরহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সাবেক নেতা মো. গোলাম রব্বানী তালুকদার বাদল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম সবুজ এবং ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক।
বক্তারা বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, নবগঠিত কমিটিতে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে হলে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নিবেদিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। অন্যথায় তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় অবিলম্বে নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান তাঁরা।
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমরা অনেক লাঞ্ছনা, হয়রানি ও হামলার শিকার হয়েছি। দলের দুর্দিনে জেল খেটেছি, ঝোপঝাড়-জঙ্গলে পালিয়ে বেড়িয়েছি। অথচ আজ যারা নবগঠিত কমিটিতে রয়েছেন, দুঃসময়ে তাঁদের কাউকে দেখিনি। দলের জন্য তাঁদের কোনো ভূমিকা চোখে পড়েনি। তাহলে আজ তাঁরা কীভাবে নবগঠিত কমিটিতে স্থান পেলেন?”
তিনি আরও বলেন, “অনতিবিলম্বে এই কমিটি বিলুপ্ত করে দলের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কাজী সেলিম, আব্দুল আজিজ, আব্দুল হাকিম ডিলার, রাহাত বিন আনোয়ার, সুজাউদ্দৌলা সুজা ও সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনসহ জয়মনিরহাট ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড থেকে আসা বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জয়মনিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবর আলী।
সমাবেশ থেকে নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করে দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানানো হয়।
নুরুল আমিন, স্টাফ রিপোর্টার 


























