শিরোনাম :

গাজীপুরে দুর্নীতির অভিযোগে ভূমি অফিসের সবাই বরখাস্ত

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার সকালে সরেজমিন অভিযান চালিয়ে অফিসের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ, যারা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া নিজে উপস্থিত থেকে এই অভিযান পরিচালনা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা। সকাল থেকেই তারা কাশিমপুর ভূমি অফিসে অবস্থান নিয়ে অফিসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
এই আলাপচারিতায় উঠে আসে নানা অনিয়মের চিত্র। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষজন অভিযোগ করেন, খতিয়ান সংশোধন, নামজারি কিংবা পর্চা তোলার মতো সাধারণ কাজেও তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো। নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও ঘুরতে হতো দিনের পর দিন, আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও ছিল। এসব অভিযোগ শোনার পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন দলটি অফিসের নথিপত্র ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পায়।
এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের। অফিসে কর্মরত প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্তকৃতদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, গাজীপুরের বিভিন্ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ছিল তার দপ্তরে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়েই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, শুধু একটি অভিযানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে না, বরং নিয়মিত তদারকির মধ্য দিয়ে ভূমি সেবাখাতে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের অনেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, বহুদিন ধরেই তারা এমন পদক্ষেপের অপেক্ষায় ছিলেন। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ জানান, সামান্য একটি কাগজের জন্যও তাদের মাসের পর মাস অফিসে ঘুরতে হয়েছে, অথচ সঠিক নিয়ম মানলে সেই কাজ একদিনেই হওয়ার কথা। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন যে ভবিষ্যতে সেবা পেতে ভোগান্তি কমবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি ব্যবস্থাপনা দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর ও অভিযোগপ্রবণ একটি ক্ষেত্র। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় এই খাতে সামান্য অনিয়মও বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে গাজীপুরের এই ঘটনা অন্যান্য এলাকার প্রশাসনের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু কাশিমপুর নয়, প্রয়োজনে গাজীপুরের অন্যান্য ভূমি অফিসেও একই ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন চালানো হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ঢাবির দুই হলে সমকামিতার অভিযোগ, নীতিমালার ভাবনা প্রশাসনে

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

গাজীপুরে দুর্নীতির অভিযোগে ভূমি অফিসের সবাই বরখাস্ত

আপডেট সময় ০২:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার সকালে সরেজমিন অভিযান চালিয়ে অফিসের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ, যারা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া নিজে উপস্থিত থেকে এই অভিযান পরিচালনা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা। সকাল থেকেই তারা কাশিমপুর ভূমি অফিসে অবস্থান নিয়ে অফিসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
এই আলাপচারিতায় উঠে আসে নানা অনিয়মের চিত্র। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষজন অভিযোগ করেন, খতিয়ান সংশোধন, নামজারি কিংবা পর্চা তোলার মতো সাধারণ কাজেও তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো। নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও ঘুরতে হতো দিনের পর দিন, আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও ছিল। এসব অভিযোগ শোনার পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন দলটি অফিসের নথিপত্র ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পায়।
এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের। অফিসে কর্মরত প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্তকৃতদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, গাজীপুরের বিভিন্ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ছিল তার দপ্তরে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়েই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, শুধু একটি অভিযানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে না, বরং নিয়মিত তদারকির মধ্য দিয়ে ভূমি সেবাখাতে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের অনেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, বহুদিন ধরেই তারা এমন পদক্ষেপের অপেক্ষায় ছিলেন। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ জানান, সামান্য একটি কাগজের জন্যও তাদের মাসের পর মাস অফিসে ঘুরতে হয়েছে, অথচ সঠিক নিয়ম মানলে সেই কাজ একদিনেই হওয়ার কথা। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন যে ভবিষ্যতে সেবা পেতে ভোগান্তি কমবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি ব্যবস্থাপনা দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর ও অভিযোগপ্রবণ একটি ক্ষেত্র। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় এই খাতে সামান্য অনিয়মও বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে গাজীপুরের এই ঘটনা অন্যান্য এলাকার প্রশাসনের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু কাশিমপুর নয়, প্রয়োজনে গাজীপুরের অন্যান্য ভূমি অফিসেও একই ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন চালানো হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Share this news as a Photo Card