শিরোনাম :
আগস্টে শুরু হচ্ছে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর পেলের ব্রাজিলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙল ডাচরা, সুইডেনকে ৫-১ গোলে ওড়াল নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের মূল টার্গেট কেন ড. ইউনূস? যাহের আলভীর কারাদণ্ড: মৃত্যুর আগে বন্ধুদের কী বলেছিলেন স্ত্রী ইকরা? মেসি কি আর্জেন্টিনার জার্সি ছেড়ে ব্রাজিলে খেলবেন? লুলার মন্তব্যে শোরগোল বিশ্বকাপ ২০২৬: প্রথম রাউন্ড শেষে নকআউটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? রাত পোহালেই আলজেরিয়া বধের মিশন: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাস কী বলছে? ঢাকার ভেতর আর থাকবে না দূরপাল্লার বাস: চার টার্মিনাল সরানোর মাস্টারপ্ল্যান, কোনটি যাচ্ছে কোথায়? মিরপুরে শেষ বলের নাটকীয়তা: বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সান্ত্বনার জয় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

চায়ের নানান গুণ

অনেকেই মনে করেন – চা খাওয়ার অভ্যাস বুঝি একটি নেশা। আবার চা ছাড়া আড্ডা যেন অসম্পূর্ণ লাগে। কিন্তু এই পরিচিত পানীয়টি শুধু ক্লান্তি কাটানোর সঙ্গী নয়, নিয়মিত ও পরিমিতভাবে চা খেলে শরীরের জন্যও মিলতে পারে নানা উপকার।

গবেষণা বলছে, চায়ের পাতায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদানগুলো হৃদ্‌যন্ত্র থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত বিভিন্ন সিস্টেমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিশেষ করে কালো ও সবুজ চায়ে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি-র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে। এর ফলে কোষের ক্ষয় কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পানকারীদের মধ্যে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

চা মানসিক সতর্কতাও বাড়ায়। এতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে জাগ্রত রাখে, আর এল-থিয়ানিন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড মনোযোগ বাড়াতে ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই কফির মতো অতিরিক্ত উত্তেজনা না এনে চা ধীরে ধীরে এনার্জি দেয় – যা অনেকের জন্য বেশি আরামদায়ক।

হজমের ক্ষেত্রেও চায়ের ভূমিকা আছে। খাবারের পর হালকা চা পেটের ভারভাব কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চায়ের কিছু উপাদান অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এজন্য অনেক সংস্কৃতিতেই খাবারের পর চা পান করার চল আছে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিক থেকেও চা গুরুত্ব পায়। চায়ের পলিফেনল ও ক্যাটেচিন জাতীয় যৌগ শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডা লাগা বা মৌসুমি সংক্রমণের সময় গরম চা অনেকের আরাম দেয়।

তবে চা খেলেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। অতিরিক্ত চা, বিশেষ করে খুব গরম চা, গলায় বা খাদ্যনালিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। আবার বেশি চিনি বা ক্রীম মেশালে চায়ের উপকার কমে গিয়ে উল্টো ক্যালরি বাড়ে। তাই দিনে ২–৩ কাপ, কম চিনি বা চিনি ছাড়া চা খাওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত।

সূত্র: ওয়েবএমডি, হেলথলাইন, হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

আগস্টে শুরু হচ্ছে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

চায়ের নানান গুণ

আপডেট সময় ১২:১৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

অনেকেই মনে করেন – চা খাওয়ার অভ্যাস বুঝি একটি নেশা। আবার চা ছাড়া আড্ডা যেন অসম্পূর্ণ লাগে। কিন্তু এই পরিচিত পানীয়টি শুধু ক্লান্তি কাটানোর সঙ্গী নয়, নিয়মিত ও পরিমিতভাবে চা খেলে শরীরের জন্যও মিলতে পারে নানা উপকার।

গবেষণা বলছে, চায়ের পাতায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদানগুলো হৃদ্‌যন্ত্র থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত বিভিন্ন সিস্টেমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিশেষ করে কালো ও সবুজ চায়ে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি-র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে। এর ফলে কোষের ক্ষয় কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পানকারীদের মধ্যে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

চা মানসিক সতর্কতাও বাড়ায়। এতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে জাগ্রত রাখে, আর এল-থিয়ানিন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড মনোযোগ বাড়াতে ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই কফির মতো অতিরিক্ত উত্তেজনা না এনে চা ধীরে ধীরে এনার্জি দেয় – যা অনেকের জন্য বেশি আরামদায়ক।

হজমের ক্ষেত্রেও চায়ের ভূমিকা আছে। খাবারের পর হালকা চা পেটের ভারভাব কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চায়ের কিছু উপাদান অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এজন্য অনেক সংস্কৃতিতেই খাবারের পর চা পান করার চল আছে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিক থেকেও চা গুরুত্ব পায়। চায়ের পলিফেনল ও ক্যাটেচিন জাতীয় যৌগ শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডা লাগা বা মৌসুমি সংক্রমণের সময় গরম চা অনেকের আরাম দেয়।

তবে চা খেলেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। অতিরিক্ত চা, বিশেষ করে খুব গরম চা, গলায় বা খাদ্যনালিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। আবার বেশি চিনি বা ক্রীম মেশালে চায়ের উপকার কমে গিয়ে উল্টো ক্যালরি বাড়ে। তাই দিনে ২–৩ কাপ, কম চিনি বা চিনি ছাড়া চা খাওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত।

সূত্র: ওয়েবএমডি, হেলথলাইন, হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ