সরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা

সরকারি পুকুর ইজারা নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে এক পক্ষ সংবাদ প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে অপর পক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দাবি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নে অবস্থিত চামাড়দিঘী পুকুরটি সম্প্রতি ভূমি অফিসের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুকুরটি মোমিন নামের এক ব্যক্তির কাছে পূর্ব ভান্ডারা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিকট ইজারা প্রদান করা হয়।
এদিকে নয়নপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে মৎস্যচাষী শাহিনুর দাবি করে বলেন, ইজারা প্রক্রিয়ায় সাধারণ মৎস্যজীবীদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। প্রভাবশালী একটি মহল যোগসাজশ করে নামমাত্র মূল্যে পুকুরটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং আমার পুকুরের মাছ বিষ প্রয়োগ করে ক্ষতি সাধন করেছে ।  তিনি আরো অভিযোগ করে  বলেন নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে,প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বাদ দিয়ে অ-মৎস্যজীবীদের ইজারা দেওয়া হয়েছে। দরপত্র দাখিল করার ৪ দিন পর বাক্স খোলা হয়েছে ,কোন প্রকার রেজুলেশন বা কমিটি না করেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে  যা অবৈধ পন্তাথায় এবং নিয়মবহির্ভূত তাই আমি এবিষয়ে হাইকোর্টে একটি  রিট পিটিশন দায়ের করেছি । আমার সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও আমি পুকুর বুঝে পাচ্ছি না। আমি আইনের কাছে বিচার চাই ।
তবে অন্যদিকে, পূর্ব ভান্ডারা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন। তাদের মতে, সরকারি সকল নিয়ম মেনেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং সর্বোচ্চ দরদাতার ভিত্তিতে তারা ইজারা পেয়েছেন । এবিষয়ে মৎস্যজীবী আইনুল হক বলেন আমরা বৈধভাবে সিডিউল কিনে অংশ নিয়েছি। যারা ইজারা পায়নি, তারা এখন হীন উদ্দেশ্যে আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে এবং পুকুরে মাছ চাষে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ খাদিজা বেগম বলেন, ইজারা প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৈধতার সাপেক্ষে পুকুরটি ইজারা দেওয়া হয়েছে , পুকুরটি নিয়ে দুই পক্ষের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাগজপত্র দেখে সঠিক প্রক্রিয়ায় পূর্ব ভান্ডারা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ইজারা দিয়েছি অপরদিকে নয়নপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিকট বকেয়া পাওনা থাকায় এবং কিছু কাগজপত্র না থাকায় তাদের ইজারা দেওয়া হয়নি । নিয়ম বহির্ভূত কিছু ঘটলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে পুকুর পাড়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা

আপডেট সময় ১০:০৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সরকারি পুকুর ইজারা নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে এক পক্ষ সংবাদ প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে অপর পক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দাবি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নে অবস্থিত চামাড়দিঘী পুকুরটি সম্প্রতি ভূমি অফিসের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুকুরটি মোমিন নামের এক ব্যক্তির কাছে পূর্ব ভান্ডারা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিকট ইজারা প্রদান করা হয়।
এদিকে নয়নপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে মৎস্যচাষী শাহিনুর দাবি করে বলেন, ইজারা প্রক্রিয়ায় সাধারণ মৎস্যজীবীদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। প্রভাবশালী একটি মহল যোগসাজশ করে নামমাত্র মূল্যে পুকুরটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং আমার পুকুরের মাছ বিষ প্রয়োগ করে ক্ষতি সাধন করেছে ।  তিনি আরো অভিযোগ করে  বলেন নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে,প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বাদ দিয়ে অ-মৎস্যজীবীদের ইজারা দেওয়া হয়েছে। দরপত্র দাখিল করার ৪ দিন পর বাক্স খোলা হয়েছে ,কোন প্রকার রেজুলেশন বা কমিটি না করেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে  যা অবৈধ পন্তাথায় এবং নিয়মবহির্ভূত তাই আমি এবিষয়ে হাইকোর্টে একটি  রিট পিটিশন দায়ের করেছি । আমার সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও আমি পুকুর বুঝে পাচ্ছি না। আমি আইনের কাছে বিচার চাই ।
তবে অন্যদিকে, পূর্ব ভান্ডারা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন। তাদের মতে, সরকারি সকল নিয়ম মেনেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং সর্বোচ্চ দরদাতার ভিত্তিতে তারা ইজারা পেয়েছেন । এবিষয়ে মৎস্যজীবী আইনুল হক বলেন আমরা বৈধভাবে সিডিউল কিনে অংশ নিয়েছি। যারা ইজারা পায়নি, তারা এখন হীন উদ্দেশ্যে আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে এবং পুকুরে মাছ চাষে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ খাদিজা বেগম বলেন, ইজারা প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৈধতার সাপেক্ষে পুকুরটি ইজারা দেওয়া হয়েছে , পুকুরটি নিয়ে দুই পক্ষের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাগজপত্র দেখে সঠিক প্রক্রিয়ায় পূর্ব ভান্ডারা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ইজারা দিয়েছি অপরদিকে নয়নপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিকট বকেয়া পাওনা থাকায় এবং কিছু কাগজপত্র না থাকায় তাদের ইজারা দেওয়া হয়নি । নিয়ম বহির্ভূত কিছু ঘটলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে পুকুর পাড়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে।

Share this news as a Photo Card