শিরোনাম :
আগস্টে শুরু হচ্ছে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর পেলের ব্রাজিলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙল ডাচরা, সুইডেনকে ৫-১ গোলে ওড়াল নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের মূল টার্গেট কেন ড. ইউনূস? যাহের আলভীর কারাদণ্ড: মৃত্যুর আগে বন্ধুদের কী বলেছিলেন স্ত্রী ইকরা? মেসি কি আর্জেন্টিনার জার্সি ছেড়ে ব্রাজিলে খেলবেন? লুলার মন্তব্যে শোরগোল বিশ্বকাপ ২০২৬: প্রথম রাউন্ড শেষে নকআউটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? রাত পোহালেই আলজেরিয়া বধের মিশন: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাস কী বলছে? ঢাকার ভেতর আর থাকবে না দূরপাল্লার বাস: চার টার্মিনাল সরানোর মাস্টারপ্ল্যান, কোনটি যাচ্ছে কোথায়? মিরপুরে শেষ বলের নাটকীয়তা: বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সান্ত্বনার জয় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

‘আমাকে শেষ করার জন্য সবাই এক হয়েছিল’: ভারতীয় সিনেমার অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক পার্বতী

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রতিভাবান ও আলোচিত অভিনেত্রী পার্বতী থিরুভোথু আবারও চলচ্চিত্র শিল্পের ভেতরের এক অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলার পর তাঁকে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি তাঁকে ক্যারিয়ার ধ্বংসের চক্রান্ত ও প্রাণনাশের হুমকির মুখোমুখিও হতে হয়েছে।

সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পার্বতী তাঁর জীবনের সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন, যা দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গন ছাড়িয়ে পুরো ভারতীয় বিনোদন দুনিয়ায় নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

সাক্ষাৎকারে পার্বতী বলেন, এমন একটি সময় এসেছিল যখন তাঁর মনে হতো, “অনেকগুলো বড় শক্তি একসঙ্গে কাজ করছে আমাকে পুরোপুরি নির্মূল করার জন্য।”

প্রতিবাদের পর যেভাবে শুরু হলো ঝড়

পার্বতীর এই সংকটের শুরুটা হঠাৎ করে হয়নি। মালয়ালম চলচ্চিত্র অঙ্গনে নারীদের কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সোচ্চার ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ভারতের ‘মি টু’ (#MeToo) আন্দোলনের সময় এবং মালয়ালম সিনেমার অভ্যন্তরীণ লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করে।

তিনি জানান, যখনই তিনি সামাজিক বা চলচ্চিত্র শিল্প-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন, তখনই তাঁর দিকে ধেয়ে এসেছে তীব্র আক্রমণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ট্রলিং, কুৎসিত ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং সরাসরি হুমকি দেওয়া শুরু হয়।

পার্বতী বলেন, “সেই সময়টা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। একদিকে অনলাইনে প্রতিনিয়ত বিদ্বেষমূলক বার্তা আসছিল, অন্যদিকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কিছু প্রভাবশালী মহল থেকেও আমাকে দূরে সরিয়ে রাখার একটি অলিখিত চেষ্টা চলছিল। তখন মনে হতো, আমি যেন একা দাঁড়িয়ে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সংগঠিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করছি।”

বড় বাজেটের ছবি হাতছাড়া ও অলিখিত নিষেধাজ্ঞা

চলচ্চিত্র জগতে কোনো শিল্পী যখন প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলেন, তখন তাঁর ওপর সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে পেশাগত জায়গা থেকে। পার্বতীর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। স্পষ্ট কথা বলার মাশুল হিসেবে তাঁকে একের পর এক বড় বাজেটের চলচ্চিত্র থেকে বাদ পড়তে হয়েছে।

অভিনেত্রী দাবি করেন, বেশ কয়েকটি বড় সিনেমার কাজ প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে তাঁর হাতছাড়া হয়ে যায়। যদিও কৌশলগত কারণে তিনি নির্দিষ্ট কোনো নির্মাতা বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের অনেকেই তাঁকে ‘বিতর্কিত’ বা ‘ঝামেলাপূর্ণ’ মনে করতে শুরু করেছিলেন।

তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্রে নারীদের সমঅধিকার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার কারণেই অনেক নির্মাতা তাঁর সঙ্গে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করছিলেন। এটি ছিল এক ধরনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’, যা একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

“কিছু সময় মনে হয়েছিল সবাই মিলে আমার পথ আটকে দিতে চায়। ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।” — পার্বতী থিরুভোথু

মানসিক চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি

কেবল পেশাগত ক্ষতিই নয়, পার্বতীকে যে ধরনের ব্যক্তিগত ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা যেকোনো মানুষের জন্যই চরম ট্রমাটিক। তিনি জানান, অনলাইনে তাঁকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। একজন নারী হিসেবে ঘরের বাইরে বের হওয়া বা স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।

মনস্তাত্ত্বিক এই লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাইরে থেকে হয়তো মনে হয় একজন তারকা খুব শক্তিশালী, কিন্তু ভেতরের গল্পটা আলাদা। নিয়মিত অপমানজনক মন্তব্য এবং মৃত্যুর হুমকি পেতে থাকলে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা কতটা কঠিন, তা কেবল ভুক্তভোগীই জানেন।”

ভিন্নধারার এক লড়াকু অভিনেত্রী

মালয়ালম সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে পার্বতী থিরুভোথু আজ সমগ্র ভারতীয় চলচ্চিত্রে একটি অত্যন্ত সমীহ জাগানো নাম। ‘টেক অফ’, ‘উয়ারে’, ‘বেঙ্গালোর ডেজ’ কিংবা ‘ইন্নু নিনতে মোইদিন’-এর মতো চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় শুধু বাণিজ্যিকভাবে সফলই হয়নি, বরং সমালোচকদের কাছ থেকেও কুড়িয়েছে ভূয়সী প্রশংসা।

তিনি এমন একজন অভিনেত্রী যিনি পর্দায় যেমন শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করেন, পর্দার বাইরেও নিজের বাস্তব জীবনে ঠিক ততটাই আপসহীন। আর এই স্পষ্টভাষী অবস্থানের কারণে তাঁকে বারবার খবরের শিরোনাম হতে হয়েছে। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি মূলত এটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বিনোদন জগতের জাঁকজমকের আড়ালে একটি গভীর অন্ধকার ও ক্ষমতার খেলা রয়েছে, যার বিরুদ্ধে কথা বললে ব্যক্তিগত ও পেশাগত চড়া মূল্য দিতে হয়।

কী ছিল টিকে থাকার শক্তি?

এতসব প্রতিকূলতা, একাকীত্ব এবং হুমকির মুখেও পার্বতী কীভাবে হাল না ছেড়ে এগিয়ে গেলেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি তাঁর পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং নিজের ভেতরের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন।

পার্বতী জানান, সব বাধা সত্ত্বেও তিনি সব সময় নিজেকে একটি কথাই মনে করিয়ে দিতেন যে—ভয়ে নীরব থাকার চেয়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতের একটি প্রগতিশীল অংশ এবং সাধারণ দর্শকরাও তাঁর এই লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভক্তদের ভালোবাসাই তাঁকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, “শিল্পী হিসেবে আমার দায়িত্ব শুধু ক্যামেরার সামনে অভিনয় করা নয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সামাজিক নানা অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার দায়িত্বও আমার রয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমি একটা জিনিসই বুঝেছি—ভয়কে জয় করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়।”

পার্বতীর এই নতুন বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককে যে আরও উসকে দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

আগস্টে শুরু হচ্ছে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

‘আমাকে শেষ করার জন্য সবাই এক হয়েছিল’: ভারতীয় সিনেমার অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক পার্বতী

আপডেট সময় ০২:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রতিভাবান ও আলোচিত অভিনেত্রী পার্বতী থিরুভোথু আবারও চলচ্চিত্র শিল্পের ভেতরের এক অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলার পর তাঁকে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি তাঁকে ক্যারিয়ার ধ্বংসের চক্রান্ত ও প্রাণনাশের হুমকির মুখোমুখিও হতে হয়েছে।

সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পার্বতী তাঁর জীবনের সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন, যা দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গন ছাড়িয়ে পুরো ভারতীয় বিনোদন দুনিয়ায় নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

সাক্ষাৎকারে পার্বতী বলেন, এমন একটি সময় এসেছিল যখন তাঁর মনে হতো, “অনেকগুলো বড় শক্তি একসঙ্গে কাজ করছে আমাকে পুরোপুরি নির্মূল করার জন্য।”

প্রতিবাদের পর যেভাবে শুরু হলো ঝড়

পার্বতীর এই সংকটের শুরুটা হঠাৎ করে হয়নি। মালয়ালম চলচ্চিত্র অঙ্গনে নারীদের কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সোচ্চার ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ভারতের ‘মি টু’ (#MeToo) আন্দোলনের সময় এবং মালয়ালম সিনেমার অভ্যন্তরীণ লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করে।

তিনি জানান, যখনই তিনি সামাজিক বা চলচ্চিত্র শিল্প-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন, তখনই তাঁর দিকে ধেয়ে এসেছে তীব্র আক্রমণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ট্রলিং, কুৎসিত ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং সরাসরি হুমকি দেওয়া শুরু হয়।

পার্বতী বলেন, “সেই সময়টা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। একদিকে অনলাইনে প্রতিনিয়ত বিদ্বেষমূলক বার্তা আসছিল, অন্যদিকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কিছু প্রভাবশালী মহল থেকেও আমাকে দূরে সরিয়ে রাখার একটি অলিখিত চেষ্টা চলছিল। তখন মনে হতো, আমি যেন একা দাঁড়িয়ে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সংগঠিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করছি।”

বড় বাজেটের ছবি হাতছাড়া ও অলিখিত নিষেধাজ্ঞা

চলচ্চিত্র জগতে কোনো শিল্পী যখন প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলেন, তখন তাঁর ওপর সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে পেশাগত জায়গা থেকে। পার্বতীর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। স্পষ্ট কথা বলার মাশুল হিসেবে তাঁকে একের পর এক বড় বাজেটের চলচ্চিত্র থেকে বাদ পড়তে হয়েছে।

অভিনেত্রী দাবি করেন, বেশ কয়েকটি বড় সিনেমার কাজ প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে তাঁর হাতছাড়া হয়ে যায়। যদিও কৌশলগত কারণে তিনি নির্দিষ্ট কোনো নির্মাতা বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের অনেকেই তাঁকে ‘বিতর্কিত’ বা ‘ঝামেলাপূর্ণ’ মনে করতে শুরু করেছিলেন।

তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্রে নারীদের সমঅধিকার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার কারণেই অনেক নির্মাতা তাঁর সঙ্গে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করছিলেন। এটি ছিল এক ধরনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’, যা একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

“কিছু সময় মনে হয়েছিল সবাই মিলে আমার পথ আটকে দিতে চায়। ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।” — পার্বতী থিরুভোথু

মানসিক চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি

কেবল পেশাগত ক্ষতিই নয়, পার্বতীকে যে ধরনের ব্যক্তিগত ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা যেকোনো মানুষের জন্যই চরম ট্রমাটিক। তিনি জানান, অনলাইনে তাঁকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। একজন নারী হিসেবে ঘরের বাইরে বের হওয়া বা স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।

মনস্তাত্ত্বিক এই লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাইরে থেকে হয়তো মনে হয় একজন তারকা খুব শক্তিশালী, কিন্তু ভেতরের গল্পটা আলাদা। নিয়মিত অপমানজনক মন্তব্য এবং মৃত্যুর হুমকি পেতে থাকলে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা কতটা কঠিন, তা কেবল ভুক্তভোগীই জানেন।”

ভিন্নধারার এক লড়াকু অভিনেত্রী

মালয়ালম সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে পার্বতী থিরুভোথু আজ সমগ্র ভারতীয় চলচ্চিত্রে একটি অত্যন্ত সমীহ জাগানো নাম। ‘টেক অফ’, ‘উয়ারে’, ‘বেঙ্গালোর ডেজ’ কিংবা ‘ইন্নু নিনতে মোইদিন’-এর মতো চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় শুধু বাণিজ্যিকভাবে সফলই হয়নি, বরং সমালোচকদের কাছ থেকেও কুড়িয়েছে ভূয়সী প্রশংসা।

তিনি এমন একজন অভিনেত্রী যিনি পর্দায় যেমন শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করেন, পর্দার বাইরেও নিজের বাস্তব জীবনে ঠিক ততটাই আপসহীন। আর এই স্পষ্টভাষী অবস্থানের কারণে তাঁকে বারবার খবরের শিরোনাম হতে হয়েছে। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি মূলত এটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বিনোদন জগতের জাঁকজমকের আড়ালে একটি গভীর অন্ধকার ও ক্ষমতার খেলা রয়েছে, যার বিরুদ্ধে কথা বললে ব্যক্তিগত ও পেশাগত চড়া মূল্য দিতে হয়।

কী ছিল টিকে থাকার শক্তি?

এতসব প্রতিকূলতা, একাকীত্ব এবং হুমকির মুখেও পার্বতী কীভাবে হাল না ছেড়ে এগিয়ে গেলেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি তাঁর পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং নিজের ভেতরের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন।

পার্বতী জানান, সব বাধা সত্ত্বেও তিনি সব সময় নিজেকে একটি কথাই মনে করিয়ে দিতেন যে—ভয়ে নীরব থাকার চেয়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতের একটি প্রগতিশীল অংশ এবং সাধারণ দর্শকরাও তাঁর এই লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভক্তদের ভালোবাসাই তাঁকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, “শিল্পী হিসেবে আমার দায়িত্ব শুধু ক্যামেরার সামনে অভিনয় করা নয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সামাজিক নানা অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার দায়িত্বও আমার রয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমি একটা জিনিসই বুঝেছি—ভয়কে জয় করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়।”

পার্বতীর এই নতুন বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককে যে আরও উসকে দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।