শিশুর সুস্থতায় প্রতিদিন তিন যোগাসন, বাড়বে নমনীয়তা ও শ্বাসপ্রশ্বাসের সক্ষমতা

শিশুর সুস্থতায় নিয়মিত যোগব্যায়াম, উপকারী হতে পারে তিনটি সহজ আসন
বর্তমান সময়ে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সর্দি-কাশি, জ্বর কিংবা শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যায় অনেক শিশুই আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই ব্যায়ামের একটি সহজ ও কার্যকর মাধ্যম হতে পারে যোগব্যায়াম।
বাংলাদেশেও অনেক স্কুল, ক্রীড়া সংগঠন ও স্বাস্থ্যসচেতন পরিবার শিশুদের দৈনন্দিন রুটিনে হালকা যোগব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছে। তবে কোনো শিশুর হাঁপানি, হৃদ্‌রোগ, হাড় বা জোড়ার সমস্যা থাকলে যোগব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ যোগাসন নিয়মিত অভ্যাস করলে শিশুর শরীর নমনীয় থাকে, পেশি ও মেরুদণ্ড শক্তিশালী হয় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের কার্যক্ষমতা উন্নত হতে পারে।
শশঙ্গাসন:
বজ্রাসনে বসে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে দুই হাত মাথার ওপর তুলতে হবে। এরপর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে কপাল মাটিতে স্পর্শ করাতে হবে। কিছুক্ষণ এভাবে থেকে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরতে হবে। এই আসন শরীরকে শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
মৎস্যাসন:
ম্যাটের ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে হাতের ভর দিয়ে বুক ও কাঁধ কিছুটা ওপরে তুলতে হবে। মাথা হালকা পেছনের দিকে রেখে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে হবে। এতে বুক প্রসারিত হয় এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
বালাসন:
হাঁটু মুড়ে গোড়ালির ওপর বসে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে বুক উরুর সঙ্গে লাগিয়ে মাথা মাটিতে রাখতে হবে। দুই হাত সামনের দিকে প্রসারিত থাকবে। প্রায় ৩০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে থেকে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরতে হবে। কয়েকবার অনুশীলন করলে শরীরের ক্লান্তি কমতে পারে এবং নমনীয়তা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, যোগব্যায়াম যেন কখনোই জোর করে করানো না হয়। প্রশিক্ষিত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে এবং শিশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে নিরাপদ। নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা গেলে শিশুর সার্বিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ আরও ভালোভাবে সহায়তা পেতে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

শিশুর সুস্থতায় প্রতিদিন তিন যোগাসন, বাড়বে নমনীয়তা ও শ্বাসপ্রশ্বাসের সক্ষমতা

আপডেট সময় ১০:০৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

শিশুর সুস্থতায় নিয়মিত যোগব্যায়াম, উপকারী হতে পারে তিনটি সহজ আসন
বর্তমান সময়ে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সর্দি-কাশি, জ্বর কিংবা শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যায় অনেক শিশুই আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই ব্যায়ামের একটি সহজ ও কার্যকর মাধ্যম হতে পারে যোগব্যায়াম।
বাংলাদেশেও অনেক স্কুল, ক্রীড়া সংগঠন ও স্বাস্থ্যসচেতন পরিবার শিশুদের দৈনন্দিন রুটিনে হালকা যোগব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছে। তবে কোনো শিশুর হাঁপানি, হৃদ্‌রোগ, হাড় বা জোড়ার সমস্যা থাকলে যোগব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ যোগাসন নিয়মিত অভ্যাস করলে শিশুর শরীর নমনীয় থাকে, পেশি ও মেরুদণ্ড শক্তিশালী হয় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের কার্যক্ষমতা উন্নত হতে পারে।
শশঙ্গাসন:
বজ্রাসনে বসে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে দুই হাত মাথার ওপর তুলতে হবে। এরপর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে কপাল মাটিতে স্পর্শ করাতে হবে। কিছুক্ষণ এভাবে থেকে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরতে হবে। এই আসন শরীরকে শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
মৎস্যাসন:
ম্যাটের ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে হাতের ভর দিয়ে বুক ও কাঁধ কিছুটা ওপরে তুলতে হবে। মাথা হালকা পেছনের দিকে রেখে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে হবে। এতে বুক প্রসারিত হয় এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
বালাসন:
হাঁটু মুড়ে গোড়ালির ওপর বসে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে বুক উরুর সঙ্গে লাগিয়ে মাথা মাটিতে রাখতে হবে। দুই হাত সামনের দিকে প্রসারিত থাকবে। প্রায় ৩০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে থেকে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরতে হবে। কয়েকবার অনুশীলন করলে শরীরের ক্লান্তি কমতে পারে এবং নমনীয়তা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, যোগব্যায়াম যেন কখনোই জোর করে করানো না হয়। প্রশিক্ষিত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে এবং শিশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে নিরাপদ। নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা গেলে শিশুর সার্বিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ আরও ভালোভাবে সহায়তা পেতে পারে।

Share this news as a Photo Card