শিরোনাম :
ন্যাটো সদস্য দেশে রুশ হামলার আশঙ্কা,মার্কিন গোয়েন্দাদের নতুন সতর্কবার্তা “চেহারা কোথায়, শুধু আওয়াজ শোনা যায়”: হাসিনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে টেকসই হবে গণতন্ত্র: ফখরুল নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোয়া : বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের জীবনযাত্রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮ হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে বড় পরিবর্তন নয়, ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই যথেষ্ট

হৃদ্‌রোগ এখন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে জীবনযাত্রায় একসঙ্গে বড় পরিবর্তন আনার চেয়ে প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই বেশি কার্যকর। দীর্ঘদিন ধরে সহজে অনুসরণ করা যায়—এমন খাদ্যাভ্যাসই হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখে না। বরং প্রতিদিনের খাবারের সামগ্রিক মানই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। তাই খাদ্যতালিকায় প্রাকৃতিক, তাজা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, গোটা শস্য, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারে থাকা আঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং রক্তনালির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খাওয়া। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত মাখন বা ঘি নিয়মিত খেলে রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এবং রক্তনালিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ে।
বাংলাদেশের চিকিৎসকদেরও একই পরামর্শ। তারা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মৌসুমি শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ফল, মাছ, ডাল এবং পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর তেল রাখা উচিত। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণেও এসব অভ্যাস কার্যকর ভূমিকা রাখে।
শুধু খাবার নয়, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান থেকে বিরত থাকা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করলে ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দিনের কঠোর ডায়েট বা হঠাৎ জীবনযাত্রা বদলে ফেলার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই বেশি ফল দেয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতন সিদ্ধান্ত—যেমন বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ—দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সুস্থ হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য আজ থেকেই ছোট পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ন্যাটো সদস্য দেশে রুশ হামলার আশঙ্কা,মার্কিন গোয়েন্দাদের নতুন সতর্কবার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে বড় পরিবর্তন নয়, ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই যথেষ্ট

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

হৃদ্‌রোগ এখন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে জীবনযাত্রায় একসঙ্গে বড় পরিবর্তন আনার চেয়ে প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই বেশি কার্যকর। দীর্ঘদিন ধরে সহজে অনুসরণ করা যায়—এমন খাদ্যাভ্যাসই হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখে না। বরং প্রতিদিনের খাবারের সামগ্রিক মানই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। তাই খাদ্যতালিকায় প্রাকৃতিক, তাজা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, গোটা শস্য, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারে থাকা আঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং রক্তনালির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খাওয়া। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত মাখন বা ঘি নিয়মিত খেলে রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এবং রক্তনালিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ে।
বাংলাদেশের চিকিৎসকদেরও একই পরামর্শ। তারা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মৌসুমি শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ফল, মাছ, ডাল এবং পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর তেল রাখা উচিত। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণেও এসব অভ্যাস কার্যকর ভূমিকা রাখে।
শুধু খাবার নয়, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান থেকে বিরত থাকা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করলে ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দিনের কঠোর ডায়েট বা হঠাৎ জীবনযাত্রা বদলে ফেলার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই বেশি ফল দেয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতন সিদ্ধান্ত—যেমন বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ—দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সুস্থ হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য আজ থেকেই ছোট পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card