অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো তাদের হারানোর কীর্তি গড়ার পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে ইতিহাস রচনা করেছিল সফরকারীরা। সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি মিলল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সবশেষ সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিংয়ে, যেখানে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার নিজেদের অবস্থানের বড় ধরনের উন্নতি ঘটিয়েছেন।
বুধবার প্রকাশিত হালনাগাদ তালিকায় সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দীর্ঘ নয় বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে এই প্রথমবারের মতো শীর্ষ বিশে ঢুকে পড়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৮৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেলার সুবাদে নয় ধাপ উন্নতি করে বিশতম স্থানে পৌঁছেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ের প্রয়োজনই পড়েনি তার দলের, এমনই সহজ ছিল জয়। ৬৫৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা অবস্থানে উঠে এলেন অধিনায়ক নিজে।
তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ উত্থান দেখা গেছে তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের বেলায়। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তিনি, যদিও দ্বিতীয় দফায় রানের দেখা পাননি। এই একটি ইনিংসই যথেষ্ট হয়েছে তাকে চুরাশি ধাপ এগিয়ে নিতে। মাত্র দুটি টেস্ট খেলা এই তরুণ এখন অবস্থান করছেন আটাশিতম স্থানে, যা তার ছোট ক্যারিয়ারের জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি।
ব্যাটারদের তালিকায় আরও এগিয়েছেন মুমিনুল হক। প্রথম ইনিংসে ঊনপঞ্চাশ ও দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ত্রিশ রানের সুবাদে পাঁচ ধাপ টপকে তিনি এখন একত্রিশতম স্থানে। এছাড়া তিন ধাপ এগিয়ে আটান্নতম স্থানে উঠে এসেছেন সাদমান ইসলাম, আর তার ঠিক পরের অবস্থানেই—উনষাটে—জায়গা করে নিয়েছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি পাঁচ ধাপ অগ্রগতি করেছেন।
বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে অবশ্য সবার শীর্ষে এখনো আছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। একুশ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে ছত্রিশ রান করেন ঊনচল্লিশ বছর বয়সী এই তারকা, ধরে রেখেছেন নিজের আঠারো নম্বর অবস্থান। বিপরীতে কিছুটা পিছিয়েছেন লিটন দাস, পাঁচ ধাপ নেমে তার অবস্থান এখন আটাশে।
বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন হাসান মাহমুদ। ডারউইনে নয়টি উইকেট শিকার করে জয়ের মূল কারিগর হওয়া এই পেসার ছাব্বিশ ধাপ লাফিয়ে উঠে এসেছেন আটত্রিশতম স্থানে। পাঁচশ তিন রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এটিও তার ক্যারিয়ারসেরা অর্জন।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া মিরাজ বোলার হিসেবেও তিন ধাপ এগিয়ে এখন চব্বিশতম স্থানে। এক উইকেট পেলেও নিজের এগারো নম্বর অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখেছেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম, যিনি এখনো বাংলাদেশের সেরা বোলার হিসেবে র্যাঙ্কিংয়ে টিকে আছেন। তিন উইকেট নিয়ে এক ধাপ এগিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, তার নতুন অবস্থান ঊনপঞ্চাশ। অন্যদিকে এই সিরিজে দলে সুযোগ না পাওয়া তরুণ পেসার নাহিদ রানা এক ধাপ পিছিয়ে ষাটে নেমে গেছেন।
অলরাউন্ডারদের তালিকায় আগের মতোই তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছেন মিরাজ, তবে তার রেটিং পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনশ বিশে। তার সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক অবশ্য এক ধাপ পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছেন।
ডারউইনের এই জয় শুধু ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায়নি, বরং র্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামগ্রিক অগ্রগতির একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে।
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সফরে ঐতিহাসিক জয়ের পুরস্কার, র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বড় উল্লম্ফন
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৬:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- 6
জনপ্রিয় সংবাদ


























