শিরোনাম :
মজুরি বোর্ড গঠনের পরও উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কারখানা বন্ধ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নার্সের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ এমবাপ্পের মন্তব্যের জেরে রিয়ালের ম্যাচ দেখায়নি চীন বিকাশ-নগদ-রকেটের বাড়তি চার্জ কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ডলারের অস্ত্রকে ভোঁতা করতে রেনমিনবির পথে এগোচ্ছে চীন, কীভাবে জুলাই হত্যাকাণ্ড: আওয়ামী লীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল সকল মাদরাসায় সরকারের নতুন নির্দেশনা মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ফের উত্তাল গাজীপুর, আশুলিয়া ও মিরপুর

দিল্লির রাজপথে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, ভিডিও দেখতে নারাজ ভারতের প্রধান বিচারপতি

দিল্লির রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চরম নির্মমতা ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলেও সেই দৃশ্য বা ভিডিও চিত্র দেখতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলনের ভিডিও দেখার মতো সময় আদালতের হাতে নেই।

​ভারতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতামূলক ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির মারাত্মক অনিয়মের প্রতিবাদে রাজধানী দিল্লিতে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লির যন্তর মন্তর ও সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি ও ব্যারিকেড গড়ে তোলে পুলিশ।

​গত সোমবার পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশন শুরু হলে শিক্ষার্থীরা সংসদের অভিমুখে বিশাল পদযাত্রা শুরু করেন। এ সময় ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করে। মুহূর্তের মধ্যেই দিল্লির রাজপথ রণাঙ্গনে পরিণত হয়।

​এই চরম পুলিশি সহিংসতার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নির্মমতার সুবিচার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন আন্দোলনকারী পক্ষের এক আইনজীবী। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হয়। আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, দিল্লি পুলিশের বর্বরতার পর্যাপ্ত ভিডিও প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে এবং আদালতকে তা দেখার অনুরোধ জানান।

​তবে শিক্ষার্থীদের পক্ষের আইনজীবীর আর্জি সরাসরি নাকচ করে দেন প্রধান বিচারপতি। শুনানির এক পর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, “আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না এবং নিজের সময়ও নষ্ট করবেন না। এসব ভিডিও দেখার মতো সময় আমাদের কাছে নেই।”

​গতকাল দিল্লি হাইকোর্টও প্রায় একই ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছিল। উচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, বিচার বিভাগকে এই রাজনৈতিক উত্তেজনার ভেতরে না টানা ভালো।

​শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনটি এখন কেবল একটি শিক্ষার দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি রূপ নিয়েছে ভারতের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের তরুণ ও বেকারদের একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন সংগঠন এই পদযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছে। কংগ্রেসসহ একাধিক প্রধান বিরোধী দল এখন এই ছাত্র সমাজকে সরাসরি সমর্থন জানাচ্ছে।

​প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যে রাজপথের শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারের পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থার প্রতিও এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দিল্লির তীব্র বৃষ্টি ও পুলিশের লাঠিপেটাকে উপেক্ষা করেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাদের অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজপথের এই উত্তাপ শেষ পর্যন্ত মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

মজুরি বোর্ড গঠনের পরও উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কারখানা বন্ধ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ফের উত্তাল গাজীপুর, আশুলিয়া ও মিরপুর

০২ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

দিল্লির রাজপথে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, ভিডিও দেখতে নারাজ ভারতের প্রধান বিচারপতি

আপডেট সময় ০৫:৩০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

দিল্লির রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চরম নির্মমতা ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলেও সেই দৃশ্য বা ভিডিও চিত্র দেখতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলনের ভিডিও দেখার মতো সময় আদালতের হাতে নেই।

​ভারতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতামূলক ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির মারাত্মক অনিয়মের প্রতিবাদে রাজধানী দিল্লিতে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লির যন্তর মন্তর ও সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি ও ব্যারিকেড গড়ে তোলে পুলিশ।

​গত সোমবার পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশন শুরু হলে শিক্ষার্থীরা সংসদের অভিমুখে বিশাল পদযাত্রা শুরু করেন। এ সময় ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করে। মুহূর্তের মধ্যেই দিল্লির রাজপথ রণাঙ্গনে পরিণত হয়।

​এই চরম পুলিশি সহিংসতার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নির্মমতার সুবিচার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন আন্দোলনকারী পক্ষের এক আইনজীবী। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হয়। আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, দিল্লি পুলিশের বর্বরতার পর্যাপ্ত ভিডিও প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে এবং আদালতকে তা দেখার অনুরোধ জানান।

​তবে শিক্ষার্থীদের পক্ষের আইনজীবীর আর্জি সরাসরি নাকচ করে দেন প্রধান বিচারপতি। শুনানির এক পর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, “আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না এবং নিজের সময়ও নষ্ট করবেন না। এসব ভিডিও দেখার মতো সময় আমাদের কাছে নেই।”

​গতকাল দিল্লি হাইকোর্টও প্রায় একই ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছিল। উচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, বিচার বিভাগকে এই রাজনৈতিক উত্তেজনার ভেতরে না টানা ভালো।

​শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনটি এখন কেবল একটি শিক্ষার দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি রূপ নিয়েছে ভারতের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের তরুণ ও বেকারদের একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন সংগঠন এই পদযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছে। কংগ্রেসসহ একাধিক প্রধান বিরোধী দল এখন এই ছাত্র সমাজকে সরাসরি সমর্থন জানাচ্ছে।

​প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যে রাজপথের শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারের পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থার প্রতিও এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দিল্লির তীব্র বৃষ্টি ও পুলিশের লাঠিপেটাকে উপেক্ষা করেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাদের অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজপথের এই উত্তাপ শেষ পর্যন্ত মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Share this news as a Photo Card