ঢাবির আট বিভাগ একীভূতকরণ: যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগকে একীভূত করে তিনটি বিভাগে রূপান্তরের একটি প্রস্তাব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সাম্প্রতিক এক সভায় বিষয়টি উঠে আসে, যদিও তা মূল আলোচ্যসূচির অংশ ছিল না—আলোচনা হয় ‘বিবিধ’ শিরোনামের অংশে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ, সংগীত, নৃত্যকলা, সংস্কৃত এবং পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগকে কলা অনুষদের অধীনে একত্র করার কথা ভাবা হচ্ছে। একইসঙ্গে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, টেলিভিশন-ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আওতায় একীভূত করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, একীভূতকরণের পক্ষে যেসব যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তা সব বিভাগের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না। তার প্রশ্ন, বাজারমূল্য কম কিংবা শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হওয়ার যুক্তি যদি সত্য হয়, তাহলে উর্দু, ফার্সি বা আরবি বিভাগের ক্ষেত্রে কেন একই মানদণ্ড প্রয়োগ হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, নাচ, সংগীত বা থিয়েটারের মতো বিষয় স্বভাবতই বিশেষায়িত, তাই সেখানে বিপুল শিক্ষার্থী প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের মতে, কোনও বিভাগ একীভূত বা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া উচিত নয়; বরং জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রয়োজন ও কর্মবাজারের চাহিদা—দুটোই বিবেচনায় নিয়ে বিশদ গবেষণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হওয়া দরকার। তিনি টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগকে একীভূত করার প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেন, কারণ দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০টি টেলিভিশন চ্যানেল সক্রিয় থাকায় বিভাগটি যথেষ্ট প্রাণবন্ত।
তার মতে, বিভাগ সম্প্রসারণ বা সংকোচন—উভয় সিদ্ধান্তই হওয়া উচিত ওপর থেকে চাপিয়ে না দিয়ে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে বটম-আপ পদ্ধতিতে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ফুকেটের বুকে সাদিয়া।

১৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ঢাবির আট বিভাগ একীভূতকরণ: যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ০২:১৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বিভাগকে একীভূত করে তিনটি বিভাগে রূপান্তরের একটি প্রস্তাব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সাম্প্রতিক এক সভায় বিষয়টি উঠে আসে, যদিও তা মূল আলোচ্যসূচির অংশ ছিল না—আলোচনা হয় ‘বিবিধ’ শিরোনামের অংশে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ, সংগীত, নৃত্যকলা, সংস্কৃত এবং পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগকে কলা অনুষদের অধীনে একত্র করার কথা ভাবা হচ্ছে। একইসঙ্গে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, টেলিভিশন-ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আওতায় একীভূত করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, একীভূতকরণের পক্ষে যেসব যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তা সব বিভাগের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না। তার প্রশ্ন, বাজারমূল্য কম কিংবা শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হওয়ার যুক্তি যদি সত্য হয়, তাহলে উর্দু, ফার্সি বা আরবি বিভাগের ক্ষেত্রে কেন একই মানদণ্ড প্রয়োগ হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, নাচ, সংগীত বা থিয়েটারের মতো বিষয় স্বভাবতই বিশেষায়িত, তাই সেখানে বিপুল শিক্ষার্থী প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের মতে, কোনও বিভাগ একীভূত বা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া উচিত নয়; বরং জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রয়োজন ও কর্মবাজারের চাহিদা—দুটোই বিবেচনায় নিয়ে বিশদ গবেষণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হওয়া দরকার। তিনি টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগকে একীভূত করার প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেন, কারণ দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০টি টেলিভিশন চ্যানেল সক্রিয় থাকায় বিভাগটি যথেষ্ট প্রাণবন্ত।
তার মতে, বিভাগ সম্প্রসারণ বা সংকোচন—উভয় সিদ্ধান্তই হওয়া উচিত ওপর থেকে চাপিয়ে না দিয়ে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে বটম-আপ পদ্ধতিতে।

Share this news as a Photo Card