দীর্ঘ তেইশ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। মূল লড়াই শুরুর আগে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালাই করে নিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিরুদ্ধে তিন দিনের একটি অনুশীলন ম্যাচে অংশ নিয়েছিল সফরকারীরা। তবে সেই লড়াইয়ে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশের। নির্ধারিত তিন দিনের ম্যাচটি ইনিংস ব্যবধানে হেরে শেষ হয়েছে মাত্র সোয়া দুই দিনের মাথায়, যা দলের ব্যাটিং সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
প্রথম ইনিংসে দলের হাল ধরেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার সেঞ্চুরির সুবাদে কিছুটা সম্মান রক্ষা হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে একেবারেই খেই হারিয়ে ফেলে সফরকারী ব্যাটিং লাইনআপ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম পর্যন্ত কেউই দাঁড়াতে পারেননি উইকেটে। মাত্র চুয়ান্ন রানে গুটিয়ে যায় গোটা ইনিংস। এমনকি দুই অঙ্কের রানে পৌঁছাতে পেরেছিলেন কেবল একজন ব্যাটার, তানজিদ হাসান তামিম।
এই ধসের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন স্বাগতিক একাদশের বাঁহাতি পেসার ক্যাম্পবেল থমসন। নতুন বলে তার গতি ও সুইংয়ের কোনো জবাবই খুঁজে পাননি সফরকারী ব্যাটাররা। টানা এগারো ওভারের এক স্পেলে মাত্র পঁচিশ রান খরচায় আট উইকেট তুলে নেন এই তরুণ পেসার, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তিনি জানান, মূল সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের ঘাটতি শুধরে নেওয়ার জন্য দলের হাতে এখনো তিন দিন সময় আছে, যা ইতিবাচক দিক। তবে অনুশীলন ম্যাচে ব্যাটিং বিভাগ যেভাবে হতাশ করেছে, তা নিয়ে তিনি স্পষ্টতই অসন্তুষ্ট। কোচের ভাষ্যে, ব্যাটাররা যেভাবে আউট হয়েছেন তা মোটেও গ্রহণযোগ্য মানের ছিল না, বিষয়টি সবার চোখেই ধরা পড়েছে।
আসন্ন টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে আগামী তেরো আগস্ট, ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে। হাতে থাকা সীমিত সময়ের মধ্যেই নিজেদের টেকনিক্যাল ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ এখন সফরকারী ব্যাটারদের সামনে। বিশেষ করে পেস সহায়ক ও বাউন্সি উইকেটে কীভাবে টিকে থাকতে হয়, সেই পাঠ দ্রুত রপ্ত করতে হবে দলের টপ ও মিডল অর্ডারকে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজ বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে। কন্ডিশনগত প্রতিকূলতা এবং স্বাগতিকদের শক্তিশালী পেস আক্রমণ মোকাবিলা করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। প্রস্তুতি ম্যাচের এই পারফরম্যান্স তাই দলের জন্য একদিক থেকে সতর্কবার্তাও বটে। কোচের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, টেকনিক্যাল দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য নিবিড় অনুশীলনের বিকল্প নেই।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টানা দুটি ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস নিয়েই অস্ট্রেলিয়া সফরে পা রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের এই বিপর্যয় সেই আত্মবিশ্বাসে খানিকটা চিড় ধরিয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আসন্ন টেস্ট সিরিজে ভালো করতে হলে ব্যাটিং বিভাগের এই দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠাই হবে দলের প্রধান লক্ষ্য।
শিরোনাম :
ব্যাটিং ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ কোচ সিমন্স, শুধরানোর তাগিদ
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০১:০৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- 8
জনপ্রিয় সংবাদ


























