ন্যাটো সম্মেলনে নেতাদের রিভলবার উপহার দিয়ে আলোচনায় এরদোয়ান

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলনে এক ব্যতিক্রমী উপহার দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের প্রত্যেককে তিনি ব্যক্তিগতভাবে একটি করে রিভলবার এবং ছয়টি তাজা গুলি উপহার দেন। প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্রের গায়ে সংশ্লিষ্ট নেতার নাম খোদাই করা ছিল, যা উপহারটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তোলে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রথম বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মেলন শেষে ফেরার পথে নেতারা বুঝতে পারেন, তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ সচল আগ্নেয়াস্ত্র। কালো আবরণে মোড়ানো লাল রঙের একটি বাক্সে রিভলবারটি রাখা ছিল। সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও।
তবে এই উপহার কৌতূহলের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রটোকল সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ও প্রটোকল কর্মকর্তাদের আগ্নেয়াস্ত্র পরিবহন, সংরক্ষণ এবং নিজ নিজ দেশের আইনগত বিধিনিষেধ সামাল দিতে বেগ পেতে হয়।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার দেশে ফিরেই তাঁর প্রাপ্ত রিভলবার বিমানবন্দর পুলিশের কাছে জমা দেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেনের কার্যালয় জানিয়েছে, তাঁর পাওয়া অস্ত্রটি অকেজো করার পর একটি সামরিক জাদুঘরে দান করা হবে।
এদিকে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপহারের ছবি প্রকাশ করে এটিকে “ব্যতিক্রমী উপহার” বলে মন্তব্য করেন। তবে আন্তর্জাতিকভাবে আগ্নেয়াস্ত্র পরিবহনের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অনেক নেতা অস্ত্রগুলো নিজ দেশে না নিয়ে তুরস্কেই রেখে গেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক অঙ্গনে সাধারণত সাংস্কৃতিক নিদর্শন, শিল্পকর্ম বা স্মারক উপহার দেওয়ার প্রচলন থাকলেও সচল রিভলবার ও গুলি উপহার দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ফলে এরদোয়ানের এই উদ্যোগ যেমন বিস্ময় সৃষ্টি করেছে, তেমনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক প্রটোকল নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইরান-সংঘাতে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে এশিয়ার শেয়ারবাজার

১৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ন্যাটো সম্মেলনে নেতাদের রিভলবার উপহার দিয়ে আলোচনায় এরদোয়ান

আপডেট সময় ০১:৫৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলনে এক ব্যতিক্রমী উপহার দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের প্রত্যেককে তিনি ব্যক্তিগতভাবে একটি করে রিভলবার এবং ছয়টি তাজা গুলি উপহার দেন। প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্রের গায়ে সংশ্লিষ্ট নেতার নাম খোদাই করা ছিল, যা উপহারটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তোলে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রথম বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মেলন শেষে ফেরার পথে নেতারা বুঝতে পারেন, তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ সচল আগ্নেয়াস্ত্র। কালো আবরণে মোড়ানো লাল রঙের একটি বাক্সে রিভলবারটি রাখা ছিল। সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও।
তবে এই উপহার কৌতূহলের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রটোকল সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ও প্রটোকল কর্মকর্তাদের আগ্নেয়াস্ত্র পরিবহন, সংরক্ষণ এবং নিজ নিজ দেশের আইনগত বিধিনিষেধ সামাল দিতে বেগ পেতে হয়।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার দেশে ফিরেই তাঁর প্রাপ্ত রিভলবার বিমানবন্দর পুলিশের কাছে জমা দেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেনের কার্যালয় জানিয়েছে, তাঁর পাওয়া অস্ত্রটি অকেজো করার পর একটি সামরিক জাদুঘরে দান করা হবে।
এদিকে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপহারের ছবি প্রকাশ করে এটিকে “ব্যতিক্রমী উপহার” বলে মন্তব্য করেন। তবে আন্তর্জাতিকভাবে আগ্নেয়াস্ত্র পরিবহনের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অনেক নেতা অস্ত্রগুলো নিজ দেশে না নিয়ে তুরস্কেই রেখে গেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক অঙ্গনে সাধারণত সাংস্কৃতিক নিদর্শন, শিল্পকর্ম বা স্মারক উপহার দেওয়ার প্রচলন থাকলেও সচল রিভলবার ও গুলি উপহার দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ফলে এরদোয়ানের এই উদ্যোগ যেমন বিস্ময় সৃষ্টি করেছে, তেমনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক প্রটোকল নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Share this news as a Photo Card