কটি গাছ রোপণ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেটিকে যত্নে বড় করে তোলাও সমান প্রয়োজন—এমন বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি চারা মাটিতে বসিয়ে চলে গেলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং একটি শিশুকে যেমন স্নেহ, পরিচর্যা ও ভালোবাসায় বড় করে তুলতে হয়, তেমনি প্রতিটি গাছেরও নিয়মিত যত্ন নিতে হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে একটি নারিকেল ও একটি নিমগাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। কিন্তু চারা লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যারা যে গাছটি লাগাবেন, সেই গাছের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বও তাদেরই।”
তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে একটি পরিবারের উদাহরণ টেনে বলেন, “একটি শিশু জন্ম নিলেই যেমন বাবা-মায়ের দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং তাকে যত্ন করে মানুষ করে তুলতে হয়; ঠিক তেমনি একটি গাছেরও পরিচর্যা করতে হবে, যাতে সেটি সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গাছ বড় হলে শুধু একজন মানুষ নয়, পুরো সমাজ তার সুফল ভোগ করে। গাছ নির্মল বাতাস দেয়, পরিবেশকে শীতল রাখে, ছায়া দেয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলে।
তার ভাষায়, “গাছটি বড় হলে আপনি বুকভরে শ্বাস নিতে পারবেন, ছায়ায় বসে শান্তি পাবেন। শুধু আপনি নন, আপনার সন্তান, পরিবার, প্রতিবেশী—সবাই এই গাছের উপকার পাবে। একসময় দেখবেন, গাছটি বড় হওয়ার আনন্দ অনেকটা নিজের সন্তানের বেড়ে ওঠার আনন্দের মতোই অনুভূত হবে।”
‘সবার আগে বাংলাদেশ‘ স্লোগান উচ্চারণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতারা।
বাটাজোর ইউনিয়নের নতুন করে খনন করা সরিকল–বাটাজোর খালের তীরে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান। তিনি গাড়ি থেকে হাত নেড়ে উপস্থিত মানুষের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
স্থানীয়ভাবে ‘বাটাজোর খাল’ নামে পরিচিত এই খালটি বাজারসংলগ্ন এলাকা পেরিয়ে সরিকল নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। খাল পুনঃখনন ও তীরবর্তী এলাকায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
বৃক্ষরোপণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী বাটাজোরে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
গৌরনদীর কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বরিশাল শহরের উদ্দেশে রওনা হন। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল বরিশাল বিভাগে তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। তাই স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও সফরটি ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিচর্যার ওপর যে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, সেটিই দীর্ঘমেয়াদে সফল সবুজায়ন কর্মসূচির মূল ভিত্তি হতে পারে। কারণ একটি চারা রোপণের চেয়ে সেটিকে বাঁচিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত করাই পরিবেশ সংরক্ষণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বার্তাই গৌরনদীর এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন করে সামনে এল।
এস কে চন্দন (স্টাফ রিপোর্টার) 




















