মেট্রোরেলে অর্ধেক ভাড়া পাচ্ছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ২৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের নাম ঢাকা মেট্রোরেল। যানজটের নগরীতে দ্রুত ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন লাখো মানুষ এটি ব্যবহার করছেন। তবে এবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মেট্রোরেল ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হতে যাচ্ছে। মেট্রোরেলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক ভাড়া ছাড়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।

​আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী ও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

​সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের উদ্যোগ

​কড়াইল বস্তিতে ‘সিএসএফ সেন্টার’ নামক এই বিশেষায়িত পুনর্বাসন কেন্দ্রটির উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী সরকারের এই কল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমান অধিকার ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

​ডা. এম এ মুহিত তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সমাজের পিছিয়ে পড়া বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেট্রোরেলে যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিক হলেও সবার জন্য তা সমানভাবে সাশ্রয়ী কি না, তা নিয়ে সরকার ভাবছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতায়াত আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী করতেই মেট্রোরেলের ভাড়ায় বিশেষ এই ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

​জেলা পর্যায়ে বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা

​অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী শুধু যাতায়াত সুবিধা নয়, বরং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি ঘোষণা দেন, দেশের প্রতিটি জেলায় প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিবন্ধী বা সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হতে হয়। জেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত বিদ্যালয় বা শিক্ষাব্যবস্থা চালু হলে গ্রামীণ জনপদের এই শিশুরা মূলধারার সমাজে নিজেদের যুক্ত করার সুযোগ পাবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—কোনো শিশুই যেন তার শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।”

​কড়াইল বস্তিতে ‘সিএসএফ সেন্টার’ এবং প্রান্তিক সেবা

​রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ প্রান্তিক বসতি কড়াইল বস্তিতে এই পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুরা মূলত এক ধরনের স্নায়বিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল ফিজিওথেরাপি ও অকুপেশনাল থেরাপির প্রয়োজন হয়। বস্তিবাসী দরিদ্র পরিবারগুলোর পক্ষে এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অসম্ভব।

​নতুন উদ্বোধন হওয়া ‘সিএসএফ সেন্টার’ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় থেরাপিউটিক ও পুনর্বাসন সেবা পৌঁছে দিতে এই কেন্দ্রটি বড় ভূমিকা রাখবে। সরকার বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগগুলোকে সবসময় স্বাগত জানায়, যা রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্যপূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”

​সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া

​মেট্রোরেলে অর্ধেক ভাড়ার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিক ও অধিকার কর্মীরা। তবে এই সুবিধা কীভাবে সাধারণ মানুষ ভোগ করবে, তা নিয়ে কিছু কারিগরি প্রশ্নও উঠছে।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ‘র‍্যাপিড পাস’ বা একক যাত্রার টিকিট কাটার ক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) খুব দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশিকা প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​মেট্রোরেলের মতো একটি আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় গণপরিবহন ব্যবস্থায় এই ধরনের সামাজিক কল্যাণমূলক পদক্ষেপ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়নের (Inclusive Development) এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইরান-সংঘাতে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে এশিয়ার শেয়ারবাজার

১৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মেট্রোরেলে অর্ধেক ভাড়া পাচ্ছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:০৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ঢাকা, ২৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের নাম ঢাকা মেট্রোরেল। যানজটের নগরীতে দ্রুত ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন লাখো মানুষ এটি ব্যবহার করছেন। তবে এবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মেট্রোরেল ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হতে যাচ্ছে। মেট্রোরেলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক ভাড়া ছাড়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।

​আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী ও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

​সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের উদ্যোগ

​কড়াইল বস্তিতে ‘সিএসএফ সেন্টার’ নামক এই বিশেষায়িত পুনর্বাসন কেন্দ্রটির উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী সরকারের এই কল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমান অধিকার ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

​ডা. এম এ মুহিত তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সমাজের পিছিয়ে পড়া বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেট্রোরেলে যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিক হলেও সবার জন্য তা সমানভাবে সাশ্রয়ী কি না, তা নিয়ে সরকার ভাবছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতায়াত আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী করতেই মেট্রোরেলের ভাড়ায় বিশেষ এই ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

​জেলা পর্যায়ে বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা

​অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী শুধু যাতায়াত সুবিধা নয়, বরং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি ঘোষণা দেন, দেশের প্রতিটি জেলায় প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিবন্ধী বা সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হতে হয়। জেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত বিদ্যালয় বা শিক্ষাব্যবস্থা চালু হলে গ্রামীণ জনপদের এই শিশুরা মূলধারার সমাজে নিজেদের যুক্ত করার সুযোগ পাবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—কোনো শিশুই যেন তার শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।”

​কড়াইল বস্তিতে ‘সিএসএফ সেন্টার’ এবং প্রান্তিক সেবা

​রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ প্রান্তিক বসতি কড়াইল বস্তিতে এই পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুরা মূলত এক ধরনের স্নায়বিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল ফিজিওথেরাপি ও অকুপেশনাল থেরাপির প্রয়োজন হয়। বস্তিবাসী দরিদ্র পরিবারগুলোর পক্ষে এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অসম্ভব।

​নতুন উদ্বোধন হওয়া ‘সিএসএফ সেন্টার’ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় থেরাপিউটিক ও পুনর্বাসন সেবা পৌঁছে দিতে এই কেন্দ্রটি বড় ভূমিকা রাখবে। সরকার বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগগুলোকে সবসময় স্বাগত জানায়, যা রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্যপূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”

​সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া

​মেট্রোরেলে অর্ধেক ভাড়ার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিক ও অধিকার কর্মীরা। তবে এই সুবিধা কীভাবে সাধারণ মানুষ ভোগ করবে, তা নিয়ে কিছু কারিগরি প্রশ্নও উঠছে।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ‘র‍্যাপিড পাস’ বা একক যাত্রার টিকিট কাটার ক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) খুব দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশিকা প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​মেট্রোরেলের মতো একটি আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় গণপরিবহন ব্যবস্থায় এই ধরনের সামাজিক কল্যাণমূলক পদক্ষেপ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়নের (Inclusive Development) এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Share this news as a Photo Card