পাবনা-ঢাকা নতুন ট্রেনের সময়সূচি ও স্টপেজ নিয়ে যাত্রীদের প্রশ্ন

পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলার বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের দাবির পর এই রুটে ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তবে সম্ভাব্য সময়সূচি, রুট এবং স্টপেজ নিয়ে এখনই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেক যাত্রীর প্রশ্ন, নতুন ট্রেন যদি বাসের তুলনায় বেশি সময় নেয়, তাহলে সেটি কতটা কার্যকর হবে?

বর্তমানে পাবনা থেকে ঢাকায় সড়কপথে বাসে পৌঁছাতে গড়ে সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ প্রস্তাবিত আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাসময় ছয় ঘণ্টা বা তারও বেশি হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। এতে অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত যাতায়াতের মূল উদ্দেশ্যই আংশিকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

যাত্রীদের একটি বড় অংশ বিকল্প সময়সূচির প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মতে, ট্রেনটি যদি প্রতিদিন সকাল ৬টায় পাবনা থেকে ছেড়ে সকাল ১১টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছায় এবং সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে রাত ১১টায় পাবনায় পৌঁছায়, তাহলে সেটি হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সময়সূচি। এতে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী কিংবা বিভিন্ন প্রয়োজনে রাজধানীতে যাওয়া মানুষ একই দিনে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে রাতে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন। ফলে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই যাত্রীরা লাভবান হবেন।

রুট নিয়েও রয়েছে ভিন্ন মত। সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের মতে, ট্রেনটি ঈশ্বরদী পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসার পরিবর্তে মাঝগ্রাম থেকেই ঢাকার দিকে পরিচালিত করা হলে অপ্রয়োজনীয় সময় কমানো সম্ভব হতে পারে। এতে যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত হবে এবং ট্রেনের গড় গতি ও সময় ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হতে পারে।

একই সঙ্গে সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্য আন্তঃনগর ট্রেনের সঙ্গেও সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। যাত্রীদের মতে, পাবনা থেকে সকাল ৬টার দিকে ট্রেন ছাড়লে রাজশাহী থেকে আসা সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সময়ের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হবে। একইভাবে ঢাকা থেকে বিকেল সোয়া ৩টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টায় ট্রেন ছাড়লে অফিস শেষে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

আলোচনায় এসেছে জয়দেবপুর স্টপেজের বিষয়টিও। পাবনার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ চাকরি, ব্যবসা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত জয়দেবপুরে যাতায়াত করেন। কিন্তু নতুন ট্রেনের প্রস্তাবিত স্টপেজ তালিকায় জয়দেবপুর না থাকলে তাদের ঢাকা পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে আসতে হবে অথবা বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে হবে। এতে বাড়বে সময়, অতিরিক্ত ব্যয় এবং যাত্রাভোগান্তি।

নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্দেশ্য যদি হয় যাত্রীদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা, তাহলে সময়সূচি, রুট ও স্টপেজ নির্ধারণে যাত্রীদের বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। পাবনাবাসীর প্রত্যাশা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এসব বিষয় পুনর্বিবেচনা করা হবে, যাতে নতুন ট্রেনটি সত্যিকার অর্থেই এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব সেবায় পরিণত হয়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইরান-সংঘাতে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে এশিয়ার শেয়ারবাজার

১৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পাবনা-ঢাকা নতুন ট্রেনের সময়সূচি ও স্টপেজ নিয়ে যাত্রীদের প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৮:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলার বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের দাবির পর এই রুটে ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তবে সম্ভাব্য সময়সূচি, রুট এবং স্টপেজ নিয়ে এখনই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেক যাত্রীর প্রশ্ন, নতুন ট্রেন যদি বাসের তুলনায় বেশি সময় নেয়, তাহলে সেটি কতটা কার্যকর হবে?

বর্তমানে পাবনা থেকে ঢাকায় সড়কপথে বাসে পৌঁছাতে গড়ে সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ প্রস্তাবিত আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাসময় ছয় ঘণ্টা বা তারও বেশি হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। এতে অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত যাতায়াতের মূল উদ্দেশ্যই আংশিকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

যাত্রীদের একটি বড় অংশ বিকল্প সময়সূচির প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মতে, ট্রেনটি যদি প্রতিদিন সকাল ৬টায় পাবনা থেকে ছেড়ে সকাল ১১টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছায় এবং সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে রাত ১১টায় পাবনায় পৌঁছায়, তাহলে সেটি হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সময়সূচি। এতে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী কিংবা বিভিন্ন প্রয়োজনে রাজধানীতে যাওয়া মানুষ একই দিনে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে রাতে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন। ফলে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই যাত্রীরা লাভবান হবেন।

রুট নিয়েও রয়েছে ভিন্ন মত। সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের মতে, ট্রেনটি ঈশ্বরদী পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসার পরিবর্তে মাঝগ্রাম থেকেই ঢাকার দিকে পরিচালিত করা হলে অপ্রয়োজনীয় সময় কমানো সম্ভব হতে পারে। এতে যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত হবে এবং ট্রেনের গড় গতি ও সময় ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হতে পারে।

একই সঙ্গে সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্য আন্তঃনগর ট্রেনের সঙ্গেও সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। যাত্রীদের মতে, পাবনা থেকে সকাল ৬টার দিকে ট্রেন ছাড়লে রাজশাহী থেকে আসা সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সময়ের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হবে। একইভাবে ঢাকা থেকে বিকেল সোয়া ৩টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টায় ট্রেন ছাড়লে অফিস শেষে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

আলোচনায় এসেছে জয়দেবপুর স্টপেজের বিষয়টিও। পাবনার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ চাকরি, ব্যবসা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত জয়দেবপুরে যাতায়াত করেন। কিন্তু নতুন ট্রেনের প্রস্তাবিত স্টপেজ তালিকায় জয়দেবপুর না থাকলে তাদের ঢাকা পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে আসতে হবে অথবা বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে হবে। এতে বাড়বে সময়, অতিরিক্ত ব্যয় এবং যাত্রাভোগান্তি।

নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্দেশ্য যদি হয় যাত্রীদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা, তাহলে সময়সূচি, রুট ও স্টপেজ নির্ধারণে যাত্রীদের বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। পাবনাবাসীর প্রত্যাশা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এসব বিষয় পুনর্বিবেচনা করা হবে, যাতে নতুন ট্রেনটি সত্যিকার অর্থেই এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব সেবায় পরিণত হয়।

Share this news as a Photo Card