স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত, স্বেচ্ছাসেবক দলে নতুন নেতৃত্ব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পর এবার সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত করার দিকে নজর দিচ্ছে বিএনপি। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগরসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এর অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর এবার স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্ব গঠনের বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি সরকারের দায়িত্ব পালন করায় সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রমে গতি কমে এসেছে। এ বাস্তবতায় নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

গত শনিবার রাতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন। যদিও দলীয়ভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

একই সময়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও দিয়েছেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানায়, রাজধানীর সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কার্যক্রম সক্রিয় করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলকে সংগঠিত করার বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান বর্তমানে সংসদ সদস্য। রাজিব আহসান সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি এখন দলীয় আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ এবং মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তত এক ডজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের বেশির ভাগই ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, অঙ্গসংগঠনগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে সাংগঠনিক মূল্যায়ন শেষে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে তৎপরতা বেড়েছে। তারা নিজেদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার বিষয়গুলো দলীয় নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরছেন। বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও তাদের উপস্থিতি ও সক্রিয়তা বেড়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী বলেন, নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে সংগঠনকে আরও কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দলকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামোকে সক্রিয় রাখা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর আগেই অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠন এবং মাঠপর্যায়ে নেতৃত্বের সমন্বয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে দলটি।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইরান-সংঘাতে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে এশিয়ার শেয়ারবাজার

১৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত, স্বেচ্ছাসেবক দলে নতুন নেতৃত্ব

আপডেট সময় ১২:১১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পর এবার সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত করার দিকে নজর দিচ্ছে বিএনপি। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগরসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এর অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর এবার স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্ব গঠনের বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি সরকারের দায়িত্ব পালন করায় সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রমে গতি কমে এসেছে। এ বাস্তবতায় নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

গত শনিবার রাতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন। যদিও দলীয়ভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

একই সময়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও দিয়েছেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানায়, রাজধানীর সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কার্যক্রম সক্রিয় করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলকে সংগঠিত করার বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান বর্তমানে সংসদ সদস্য। রাজিব আহসান সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি এখন দলীয় আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ এবং মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তত এক ডজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের বেশির ভাগই ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, অঙ্গসংগঠনগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে সাংগঠনিক মূল্যায়ন শেষে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে তৎপরতা বেড়েছে। তারা নিজেদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার বিষয়গুলো দলীয় নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরছেন। বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও তাদের উপস্থিতি ও সক্রিয়তা বেড়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী বলেন, নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে সংগঠনকে আরও কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দলকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামোকে সক্রিয় রাখা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর আগেই অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠন এবং মাঠপর্যায়ে নেতৃত্বের সমন্বয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে দলটি।

Share this news as a Photo Card